নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়ে রাজু আহম্মেদ (৩২) নামে এক বিএনপি কর্মী খুন হয়েছেন। নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে যে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সম্পাদিত হয়েছে। রোববার গভীর রাতে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা বালুরঘাট এলাকায় এ ঘটনা সংঘটিত হয়। পরিবারিক সূত্রমতে, হামলার সময় রাজুর ফুফাতো ভাইকে পাওয়া না গেলেও তাকেই প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। পরে হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে লাঠির আঘাত ও ধারালো অস্ত্রের কোপে রাজুকে জখম করে। নিহত রাজু ওই এলাকার বাসিন্দা আয়নাল হকের ছেলে। শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং পেশায় একজন গরুর খামারি ছিলেন। তার মা সালেহা বেগম সংবাদকর্মীদের জানান, ওই রাতে রাজুর ফুফাতো ভাইয়ের সাথে এলাকার শাহাদাত বাহিনীর প্রধানের ঘনিষ্ঠ নুরুল ও জাকিরের শুরুতে বাদানুবাদ হয়, যা ক্রমে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। সেখানে পৌঁছিয়ে রাজু উভয় পক্ষকে নিবৃত করার প্রয়াস নেন। কিন্তু ঘটনা শান্ত হওয়ার কিছু সময় পর রাত ১১টার দিকে পুনরায় নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫-২০ সদস্যের একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়ির ওপর চড়াও হয়। তাদের দাবি, ফুফাতো ভাইকে খুঁজে না পেয়ে বদনামে রাজুর উপরেই চড়াও হয় তারা। এ সময় তাকে বাঁচাতে এলে পরিবারের নারী সদস্য ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনকেও প্রহৃত করা হয়। চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। প্রথমে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে মুন্সিগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় বোন সোনিয়া বেগম উল্লেখ করেন, তার ভাই দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, তবে আনুমানিক তিন মাস আগে তিনি সরাসরি রাজনীতি থেকে বিরতি নেন। তারপর থেকে স্থানীয় নেতা শাহাদাত প্রধানের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব বাধে। সেই বিরোধই এই সুপরিকল্পিত হত্যার মূল কারণ বলে তিনি অভিযুক্ত করেন। সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, রাজুর মৃতদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে এবং অপরাধে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।