মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে পুরনো পারমাণবিক চালিত বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস এন্টারপ্রাইজকে অবসরে পাঠানোর পরও তা আমেরিকান করদাতাদের পকেটে বড় ধরনের খরচের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই বিশালাকার রণতরীটিকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করার জন্য একটি বিশেষায়িত জাহাজ ভাঙা কোম্পানির সঙ্গে ৪১৮.৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে।
এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে নজর কাড়ছে। ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ, যা 'বিগ ই' নামেও পরিচিত ছিল, ১৯৬১ সালে কমিশন লাভ করে এবং দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন নৌবহরের সেবায় নিয়োজিত ছিল। এটি ছিল বিশ্বের সর্বপ্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার। জাহাজটি ২০১২ সালে সক্রিয় দায়িত্ব থেকে চূড়ান্তভাবে অবসরপ্রাপ্ত হয় এবং ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্ক্রিয়করণ (ডিকমিশনিং) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
জাহাজটির ধ্বংসসাধন একটি জটিল ও প্রযুক্তিগতভাবে সংবেদনশীল কাজ। এর আটটি পারমাণবিক চুল্লির বিদ্যমানতা এটিকে সাধারণ জাহাজ ভাঙার পদ্ধতির আওতার বাইরে নিয়ে যায়। তেজস্ক্রিয় উপাদান নিরাপদে অপসারণ ও পুনর্ব্যবহারের কঠোর নিয়মকানুন এই প্রক্রিয়াকে ব্যয়বহুল করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে বিশেষায়িত কৌশল ও বিপুল পরিমাণ সময় ব্যয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত এই রণতরীটির রক্ষণাবেক্ষণেও ইতিমধ্যে কোটি কোটি ডলার খরচ হয়েছে। নিষ্ক্রিয় করার পর থেকে এটি ভার্জিনিয়ার নিউপোর্ট নিউজ শিপইয়ার্ডে রাখা ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো প্রকল্পটি সম্পন্ন হতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। চুক্তির এই মূল্য নৌবাহিনীর পারমাণবিক চালিত জাহাজ নিষ্পত্তি কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ব্যয়ের উদাহরণ। এই ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদেরই বহন করতে হবে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা-পরবর্তী ব্যয় ব্যবস্থাপনার ওপর নতুন করে আলোকপাত করেছে।


