পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানায় জাতীয় পরিচয়পত্রের জালিয়াতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে দেশটির সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থাকে গ্রাহকের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য বায়োমেট্রিক অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। নতুন এই নিয়মে ফটোকপি বা শুধু চোখে দেখে পরিচয় নিশ্চিত করার পদ্ধতি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত এক দশকে চালু হওয়া 'ঘানা কার্ড' নামের প্লাস্টিকের বায়োমেট্রিক জাতীয় পরিচয়পত্রটি দেশটির নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের জন্য বাধ্যতামূলক। ব্যাংকিং সেবা, সিম কার্ড নিবন্ধন, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় কাজে এই কার্ড অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
ঘানার জাতীয় পরিচয় কর্তৃপক্ষের (এনআইএ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘানা কার্ডে ১০টি আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ স্ক্যান, ছবি ও স্বাক্ষর—এই বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। পূর্বে প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু চাক্ষুষ পরিদর্শন বা ফটোকপি করে কার্ডের সত্যতা যাচাই করত, যা প্রতারকদের জন্য সহজেই জালিয়াতির সুযোগ তৈরি করত।
এনআইএ-প্রধান উইজডম ইয়ায়রা কোকু ডেকু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লেনদেনের উদ্দেশ্যে ঘানা কার্ডের ফটোকপি করা বা শুধু চোখে দেখা এখন অপরাধ বলে গণ্য হবে। বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ এখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই মোবাইল ফোনের একটি অ্যাপের মাধ্যমে কার্ড স্ক্যান করে সেই তথ্য মিলিয়ে নিতে হবে।
নতুন এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের। এনআইএ জানিয়েছে, যেসব সংস্থা ফটোকপি বা চাক্ষুষ যাচাই পদ্ধতি ব্যবহার চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ঘানিয়ান সেডি (প্রায় ২,১০০ মার্কিন ডলার বা ১,৫৫০ পাউন্ড) এবং ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৬ হাজার ঘানিয়ান সেডি (প্রায় ৫২৫ ডলার বা ৩৯০ পাউন্ড) জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
এনআইএ কর্তৃপক্ষ এখনো যেসব প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল আইডি ভেরিফিকেশন অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত হয়নি, তাদের দ্রুত প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। ডেকু জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংশোধিত নিয়মাবলি ও তার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরবে সরকার।
ঘানার রাজধানী আক্রা থেকে সংবাদদাতা টমাস নাদি অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহ করেছেন।



