ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানান, সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মোট ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজের জন্য দেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক জমি হস্তান্তরের তালিকা প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী দেখিয়েছেন, মুর্শিদাবাদ জেলা সবচেয়ে বেশি জমি দিয়েছে। এই জেলায় ৪৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার সীমান্তের জন্য ৩৩৭ একর জমি দেওয়া হয়েছে, যা মোট হস্তান্তরিত জমির ৩৩ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের একটি মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা, যেখানে ৪২ দশমিক ৭ কিলোমিটারের জন্য ২৪১ দশমিক ০৩ একর জমি দেওয়া হয়েছে।
এরপর যথাক্রমে কোচবিহার (৩৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটারের জন্য ১৩৫ দশমিক ৩৩ একর), মালদা (২০ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের জন্য ১৭৬ দশমিক ৭৮ একর), নদীয়া (১৪ দশমিক ৭৯ কিলোমিটারের জন্য ৯৫ দশমিক ১১ একর), দক্ষিণ দিনাজপুর (৭ দশমিক ৭৫ কিলোমিটারের জন্য ২৬ দশমিক ৪১ একর), দার্জিলিং (১ দশমিক ৪৫ কিলোমিটারের জন্য ৪ দশমিক ৩১ একর), উত্তর দিনাজপুর (১ দশমিক ২৮ কিলোমিটারের জন্য ৬ দশমিক ৬১ একর) এবং জলপাইগুড়ি (০ দশমিক ৩১ কিলোমিটারের জন্য ২ দশমিক ১৭ একর) রয়েছে তালিকায়।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং সীমান্তকে শক্তিশালী করাই আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও সুনিশ্চিত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে আমরা এই প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’ তিনি আরও জানান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ জমি পাবে।
পূর্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে জমি হস্তান্তরে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। রাজ্যের নাগরিক সমাজের একাংশ বরাবরই বলতেন, জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি এমন রাজ্যের জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া ঠিক নয়। ২০১৫ সালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তচুক্তির সময় ১০ হাজার একরের বেশি জমি বাংলাদেশকে দেওয়া হলে পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছিল এবং আন্দোলনও করেছিল। তবে বর্তমানে বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

