উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাসের শেষ রোগী হাসপাতাল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দেশটিতে আর কোনো সক্রিয় সংক্রমণ নেই। এই মুহূর্তকে 'আনন্দের সময়' হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. ক্রিস বেরিওমুনসি। এখন থেকে ৪২ দিনের একটি গণনা শুরু হয়েছে; এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো নতুন সংক্রমণ শনাক্ত না হয়, তাহলে উগান্ডাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, দ্রুত চিকিৎসা এবং একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমেই ইবোলাকে পরাজিত করা সম্ভব। তবে তার মন্ত্রণালয় মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জ্বর, বমি, ডায়রিয়া বা অস্বাভাবিক রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিতে হবে।
এই প্রাদুর্ভাবে বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ গত মে মাসে নিশ্চিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিটি ছিলেন একজন পুরুষ, যিনি প্রতিবেশী গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) থেকে চিকিৎসার জন্য উগান্ডায় এসেছিলেন। ডিআরসি-তে বর্তমানে ব্যাপক সংক্রমণ মোকাবিলা করছে কর্তৃপক্ষ। উগান্ডায় মোট ২০টি নিশ্চিত সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে, যার অধিকাংশই ডিআরসি থেকে আসা ব্যক্তি। এতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
গত দুই দশকে উগান্ডা একাধিক ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সম্মুখীন হয়েছে এবং এখন ভাইরাস মোকাবিলায় সুসংহত প্রোটোকল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সন্দেহভাজন রোগীদের আলাদা করা, সংস্পর্শ শনাক্তকরণ এবং জনস্বাস্থ্য বার্তা প্রচার। অন্যদিকে, ডিআরসি-তে সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২ হাজারের বেশি নিশ্চিত সংক্রমণ ও ৭৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক কর্মকর্তা এই সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছেন, প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা রেকর্ডের চার গুণ বেশি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, ডিআরসি থেকে ফেরত আসা নাগরিকদের দেশে প্রবেশের আগে তৃতীয় কোনো দেশে ২১ দিন কাটাতে হবে। আগে তারা নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারতেন। এই নতুন নিয়ম ইবোলা-আক্রান্ত এলাকায় কাজ করতে ইচ্ছুক মার্কিন চিকিৎসকদের নিয়োগ এবং কার্যক্রমের পরিধি প্রভাবিত করতে পারে বলে জানিয়েছেন একটি ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাংকলিন গ্রাহাম।
ইবোলা ভাইরাস শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে আক্রমণ করে। এটি সাধারণত প্রাণী, বিশেষত ফলের বাদুড় থেকে সংক্রমিত হয়, তবে সংক্রমিত প্রাণী স্পর্শ করার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। রক্তের মতো শারীরিক তরলের মাধ্যমেও এটি সংক্রমিত হয়। উগান্ডায় এই প্রাদুর্ভাবের শেষ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠায় স্বস্তি ফিরেছে, তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।

