কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের লক্ষ্যে শুরু হওয়া ‘দ্রোহযাত্রা’র দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রোববার রাজধানীতে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এই জমায়েতে ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়। অর্থনীতিবিদ ও দ্রোহযাত্রার সভাপতি আনু মুহম্মদ এ সময় হতাশা পরিহার করে ঐক্যের শক্তিকে আরও প্রসারিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছাত্র, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী ও শ্রমজীবীসহ সব স্তরের মানুষকে সংঘবদ্ধভাবে লড়তে হবে।
জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বিকেলে মিছিলটি শুরু হয় এবং শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সন্ধ্যার দিকে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হলে চব্বিশের শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে আনু মুহম্মদ মন্তব্য করেন, ফ্যাসিস্টদের পতন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং আবারও জনস্বার্থ-পরিপস্থী নানা কাজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেসব সমঝোতা চুক্তি জাতীয় স্বার্থের জন্য হানিকর, ভিন্ন মতের প্রতি আবার যে অ-সহিষ্ণুতা দৃষ্টিগোচর হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে দ্রোহযাত্রার মর্মকে অব্যাহত রেকতে হবে।
অনুষ্ঠানে ছয়টি নির্দিষ্ট দাবির উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে আছে জুলাই মাসের খুনের দ্রুত বিচার কার্যরুদ্ধ করা; মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থ-পরিপন্থী সব বিলুপ্তি; ধর্মী, জাতি ও লিঙ্গ ভিত্তিক নির্যাতন রোধ এবং মতপ্রকাশের নিশ্চয়তা; কর্মীদের জন্য জাতীয় নুন্যতম বেতন নির্ধারণ; উন্নয়নের ছুতোয় প্রকৃতি-বিধ্বংসী প্রকল্প বন্ধ; এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের অধিকারকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার অন্তর্ভুক্ত করা।
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শহীদ ফারহান ফাইয়াজের পিতা শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া নিজ পুত্রসহ দেড় হাজারের বেশি আত্মদানকারীর স্বপ্ন বার্থ হতে না দেওয়ার আরজি জানান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কমিউনিষ্ট পার্টির নেতা আবদুল্লাহ কাফী রতন, সংস্কৃতিকর্মী জামসেদ আনোয়ার, অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, অলিউর সান ও মাসুদ রানাসহ প্রমুখ। সভার চে আলাদা মাত্রা যোগ করে সংগীত, আবৃত্তি ও নাটক। ফারহানা ওয়াহিদ সায়ান শহীদ নাফিসার স্মরণে গান গায়েন, আবৃত্তি করেন দীপক সুমন। শেষে বিবর্তন দলের নাটক মঞ্চায়িত হয়।




