বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় নানা দেশ নীতি গ্রহণ করলেও ভিয়েতনামের নতুন পদক্ষেপে রয়েছে এক অদ্ভুত শর্ত। দেশটির সরকার ঘোষণা করেছে, যে নারীরা দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেবেন তারা পাবেন নগদ বোনাস। তবে এই বোনাস পাওয়ার জন্য নারীদের বয়স হতে হবে ৩৫ বছরের নিচে এবং প্রথম সন্তানটি জীবিত ও জৈবিকভাবে নিজের হতে হবে। এই শর্ত পূরণ না করলে কোনো সুবিধা মিলবে না।
নতুন জনসংখ্যা আইনের আওতায় এই মাস থেকে শুরু হয়েছে এই প্রণোদনা প্রকল্প। দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর নারীরা পাবেন ন্যূনতম ২০ লাখ ভিয়েতনামি ডং (প্রায় ৭৬ ডলার)। যদিও এই অঙ্কটি মিলিয়নে প্রকাশ করা হচ্ছে, বাস্তবে তা একটি বিলাসবহুল ডিনারের মূল্যের সমান। পুরুষদের জন্যও একই সুবিধা প্রযোজ্য, যদি তাদের স্ত্রী দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন। সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী ও কম উর্বরতা সম্পন্ন এলাকার বাসিন্দারাও এই সুবিধার আওতায় পড়বেন। তবে পুরুষদের বয়সসীমা সংক্রান্ত কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। তৃতীয় বা চতুর্থ সন্তানের জন্যও একই সুবিধা মিলবে কিনা, সে বিষয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে। ফরচুনের অনুরোধে ভিয়েতনাম সরকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
শুধু নগদ বোনাস নয়, স্বাস্থ্যসেবা ও ছুটির ক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তন। দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়িয়ে ৭ মাস করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৬ মাস। অন্যদিকে পিতৃত্বকালীন ছুটি দ্বিগুণ করে ১০ কার্যদিবস করা হয়েছে। প্রায় ১০ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশটির উর্বরতার হার উদ্বেগজনক হারে কমছে। ২০২৪ সালে ভিয়েতনামে প্রতি নারীর সন্তান জন্মের হার দাঁড়িয়েছে ১.৯১, যা প্রতিস্থাপন স্তরের (২.১) নিচে। এই পরিস্থিতিতে দেশটি তার পূর্ববর্তী দুই-সন্তান নীতি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান ধারণের কারণে নারীরা কর্মজীবনে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পূর্ণকালীন কর্মজীবী মায়েরা পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় প্রায় ৩১ শতাংশ কম আয় করেন। এই পার্থক্য মাসে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ডলার এবং বছরে ১৭ হাজার ডলার। ৩০ বছরের কর্মজীবনে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ডলার। এই হিসাব রক্ষণশীল বলেই ধরা হচ্ছে। এ কারণেই বর্তমানে অনেক নারী সন্তান ধারণে বিলম্ব করছেন এবং কম সন্তান নিচ্ছেন।
বিশ্বের অন্যান্য দেশও একই ধরনের সংকট মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। ফ্রান্সে ২৯ বছর বয়সী নারীদের চিঠি পাঠিয়ে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যেন পরিবার শুরু করতে দেরি না করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বোয়ং গ্রুপ নামের একটি নির্মাণ কোম্পানি তাদের কর্মীদের প্রতিটি সন্তানের জন্য প্রায় ৬৬ হাজার ডলার করে বোনাস দিচ্ছে, এবং পূর্ববর্তী সন্তানের জন্যও এই বোনাস প্রযোজ্য। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক নিজেও উর্বরতা গবেষণায় মিলিয়ন ডলার দান করেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, নারীরা যদি আরও সন্তান না নেন তাহলে 'সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।' তবে ১৪ সন্তানের পিতা মাস্ক নিজেই কর্মজীবী পিতামাতার জন্য বাড়ি থেকে কাজ করার মতো নীতির বিরোধিতা করেছেন, যা শিশু যত্নে সহায়ক হতে পারে।




