চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের জিনজিয়াং শহরে একটি জুতার কারখানায় ভয়াবহ আগুন লেগে অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এই দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ভবন থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উড়তে এবং ছাদের ওপর আটকা পড়া মানুষের দেখা গেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা) হুইটেং ফুটওয়্যার নামের এই কারখানাটিতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির খবর অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে কয়েকশ উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয় এবং ২১৩ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করে জানানো হয়নি। আগুন নেভাতে ও উদ্ধার অভিযান চালাতে কর্তৃপক্ষ ৫০০-এরও বেশি সদস্য মোতায়েন করে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানাটিতে প্রায় ২৪০ জন উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধারকৃত ২১৩ জনের মধ্যে দুজন পরবর্তীতে হাসপাতালে মারা যান। নিখোঁজ থাকা অপর ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার নিচতলায় সংরক্ষিত দাহ্য পদার্থ থেকে এই আগুনের উৎপত্তি হতে পারে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার পর কারখানার মালিকপক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই অগ্নিকাণ্ডকে ‘বড় ধরনের প্রাণহানির’ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন এবং দায়ীদের ‘কঠোরভাবে জবাবদিহির’ আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দেশটির কর্মকর্তাদের প্রতি চলতি বছরের অন্যান্য ‘বড় শিল্প দুর্ঘটনা’ থেকে ‘গভীর শিক্ষা’ গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি, ‘কঠোর ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে হংকংয়ের বেশ কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ভয়াবহ আগুনে ১৬৮ জন নিহত হওয়ার পর চীন উঁচু ভবনে অগ্নি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান শুরু করেছিল।
‘চীনের জুতার রাজধানী’ হিসেবে খ্যাত জিনজিয়াং শহরটি বিশ্বের ক্রীড়া জুতার প্রায় ২০ শতাংশ উৎপাদন করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।




