বিশ্বকাপের নিরাপত্তা আয়োজনে এবার যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। মেক্সিকোর গুয়াদালুপে শহরের বিবিভিএ স্টেডিয়ামে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে চার পায়ের রোবট কুকুর। 'কেএনাইন-এক্স' বা 'K9-X' নামে পরিচিত এই ইউনিটে রয়েছে চারটি রোবট কুকুর, যারা স্টেডিয়ামের ভেতর ও বাইরে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। ম্যাচ শুরুর আগে তারা প্রবেশপথ, পার্কিং এলাকা ও দর্শক চলাচলের পথ পর্যবেক্ষণ করে। কোথাও অস্বাভাবিক ভিড়, পরিত্যক্ত ব্যাগ বা সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তার ভিডিও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণকক্ষে প্রেরণ করে। এর ফলে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।

এই রোবটগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন প্রযুক্তি, নানা ধরনের সেন্সর, ভয়েস কমান্ড ব্যবস্থা এবং তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা প্রেরণের সক্ষমতা। এদের নকশা এমনভাবে তৈরি যে, সিঁড়ি, বাঁকা পথ বা ধ্বংসস্তূপের মতো জায়গায়ও এরা সহজে চলাচল করতে পারে। মানুষের পক্ষে যেখানে পৌঁছানো কঠিন বা ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে রোবট কুকুর সহজেই তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম।

তবে এই যান্ত্রিক প্রহরীরা স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না। এরা পরিচালিত হয় প্রশিক্ষিত অপারেটরের মাধ্যমে। রোবটগুলোর কাজ শুধু তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে সতর্ক করা। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। অর্থাৎ, এরা মানুষের কাজকে আরও দ্রুত ও নিরাপদ করে তোলে, প্রতিস্থাপন করে না।

শুধু বিশ্বকাপ নয়, বিশ্বের নানা দেশে পুলিশ ও সামরিক বাহিনী রোবট কুকুর ব্যবহার করছে। সন্দেহজনক বস্তু পরীক্ষা, বিস্ফোরক শনাক্তকরণ, জনসমাগমে নজরদারি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অভিযানের কাজে এরা সহায়তা করছে। সামরিক ক্ষেত্রে সীমান্ত টহল ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহেও এদের ব্যবহার বাড়ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও এদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডে ধসে পড়া এলাকায় প্রথমে পাঠানো হয় রোবট কুকুর। তারা সেখানে ভিডিও ধারণ করে, তাপমাত্রা ও পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে উদ্ধার পরিকল্পনা সহজ করে দেয়।

শিল্প ও স্বাস্থ্য খাতেও রোবট কুকুরের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। তেল-গ্যাস প্ল্যাটফর্ম, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পাইপলাইন পরিদর্শনে এরা কাজ করছে। এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারির সময় হাসপাতালে রোগীদের কাছে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া এবং আইসোলেশন ওয়ার্ড পর্যবেক্ষণের কাজেও এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহ অভিযানে কঠিন ভূখণ্ডে অনুসন্ধানের জন্য রোবট কুকুর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপে রোবট কুকুরের উপস্থিতি প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। মানুষের বিকল্প না হয়ে, এই যন্ত্রগুলি তাদের সহায়ক হয়ে কাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।