বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালালে দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছিল। মার্কিন এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে হামলার পরপরই দাম কিছুটা নিম্নমুখী হয়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো বড় প্রভাব পড়েছে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাজার সূত্র বলছে, আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। ইতিমধ্যে ওপেকের কয়েকটি দেশ উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনও আসেনি। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলা চালানো হয়েছে কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই। তবে এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তেলের দামের এই ওঠানামা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যেসব দেশ তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি সংঘাত আরও বাড়ে, তাহলে দাম আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা হামলার আগের তুলনায় প্রায় ২ ডলার কম। তবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও প্রায় একই পথে চলছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্প মেয়াদে দামের এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে।