রোহিঙ্গা সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বর্ণনা করে বিমসটেকের এজেন্ডায় তা না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিমসটেক সচিবালয়ে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
পান্ডে জানান, সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই বিমসটেকের আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক ধরনের বিষয়গুলো এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, ফলে রোহিঙ্গা ইস্যুটিও ওই কাতারেই পড়ে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—এই দুই অঞ্চলকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্যে বিমসটেক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে বাস্তবিক ও দৃশ্যমান সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত খাতে। সংস্থাটি এতদিন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন পেলেও দৃশ্যমান সহযোগিতার বাইরে রাজনৈতিক ইস্যুতে জড়ায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এর আগের দিন (সোমবার) রাজধানীর বিস মিলনায়তনে এক সেমিনারে বিমসটেকের মহাসচিবের উপস্থিতিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সংস্থাটিকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার পান্ডে এই ব্যাখ্যা দেন।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার বিমসটেকের অন্যতম সদস্য। ২০১৭ সালে ওই দেশে জাতিগত নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার।




