ন্যাটোর সামরিক কমান্ড সেন্টারে ইন্টার্ন হিসেবে কর্মরত অবস্থায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে একজন কানাডীয় নাগরিককে আটক করেছে বেলজিয়ামের পুলিশ। শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানায়, ন্যাটোর নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বেলজিয়ামের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগকে বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করলে একটি গুপ্তচরবৃত্তি তদন্ত শুরু হয়।
ফলশ্রুতিতে, সন্দেহভাজনের বাড়ি ও ন্যাটোর সুবিশাল কমান্ড সেন্টারের ভেতরে তার কর্মস্থলে অভিযান চালানো হয় এবং পরদিন শুক্রবার “চীনা বংশোদ্ভূত এই কানাডীয় নাগরিককে” আটক করা হয়। প্রসিকিউটরদের বরাত দিয়ে বলা হয়, “তিনি তৃতীয় একটি রাষ্ট্রের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সন্দেহভান এবং একই সাথে একটি অপরাধী সংগঠনের সদস্য বলেও বিবেচিত হচ্ছেন।” মিত্র বাহিনীর কৌশলগত সদর দপ্তর বা শেইপ অবস্থিত ফরাসি সীমান্তের কাছে বেলজিয়ামের মন্স শহরে। এখানকার সামরিক কর্মকর্তারা যৌথ কৌশল, কৌশলগত পদক্ষেপ ও অভিযানের পরিকল্পনা ও পরিচালনা করে থাকেন। জোটের রাজনৈতিক সদর দপ্তর ব্রাসেলসে, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতরা প্রতিরক্ষা ব্যয়, ড্রোন অনুপ্রবেশ ও সাইবার হুমকি নিয়ে আলোচনা করেন।
শেইপ-এর মুখপাত্র কর্নেল মার্টিন এল. ও'ডনেলের ভাষ্যে বলা হয়েছে, “এই মুহূর্তে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে ন্যাটো বা শেইপ-এর কার্যপ্রস্তুতি, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অথবা চলমান কার্যক্রম কোনোভাবে প্রভাবিত হয়েছে। শেইপ নিরবিচ্ছিন্নভাবে তার দায়িত্ব পালন করেই চলছে।” কানাডা ও বেলজিয়াম উভয়ই ৩২ দেশের এই সামরিক জোটের সদস্য, যে জোট ২০২১ সালে রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সক্রিয় হুমকির পাশাপাশি চীনকে একটি ‘নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। ন্যাটো নেতাদের অভিযোগ, চীন বিশ্বব্যবস্থাকে ক্ষুণ্ন করতে, অস্বচ্ছভাবে নিজ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং অস্থিতিশীল করে তোলে এমন ভুল তথ্য প্রচার করে।
তাদের ভাষ্যানুযায়ী, বেইজিংয়ের লক্ষ্য ও ‘জেদি আচরণ নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং জোটের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।’ চীনা সরকার অবশ্য বিবৃতিটি নিন্দা করে তাদের সামরিক শক্তিবৃদ্ধিকে আত্মরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছিল। বর্তমান আটকের ঘটনাটি জোটের জন্য একটি সংবেদনশীল সময়ে ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভূমিকা কাটছাঁট করে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন। তিনি মিত্রদের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াতে এবং ইরান সংঘাতে অংশ নিতে চাপ দিচ্ছেন, অন্যদিকে ন্যাটোর সদস্য ডেনমার্কের কাছ থেকে জোরপূর্বক গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিও দিয়েছেন—যা ইউরোপীয় ও জোট সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। গত বছর ট্রাম্পের চাপের মুখে ন্যাটোর ৩২টি দেশ মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ করতে সম্মত হয়—যার মধ্যে ৩.৫ শতাংশ থাকবে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রে, আর ১.৫ শতাংশ সড়ক-সেতুসহ অবকাঠামো ও সাইবার নিরাপত্তায়।




