আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সাবেক বিপণনপ্রধান মাইকেল পেইন দাবি করেছেন, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর শাসনকাল এখন ‘বিষাক্ত’ আকার ধারণ করেছে এবং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ এই সংস্থার প্রধান হিসেবে তাঁর দশ বছরের শাসনের সমাপ্তি ঘনিয়ে এসেছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেইন জানান, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এখন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি থাকলে বিশ্ব ফুটবলের জন্য বিরাট বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।
গত মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া এক নথিতে দেখা যায়, ফিফার পরিকল্পনা ছিল ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে একটি নতুন বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করে এর প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলা। এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে স্থির করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ফিফার ২১১টি সদস্যদেশের প্রতিটি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে এককালীন দুই কোটি ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়। ফিফার প্রতিটি সদস্য সংস্থার একটি করে ভোট রয়েছে।
পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে গত শনিবার ইনফান্তিনো তা স্থগিত করেন। এই প্রসঙ্গে পেইন মন্তব্য করেন, কোনো ক্রীড়া প্রশাসকের এত দ্রুত জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর ঘটনা তিনি আগে দেখেননি। তিনি আরও বলেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও ইনফান্তিনো সফলভাবে একটি বিশ্বকাপ আয়োজনের কারণে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে ছিলেন। আগামী বছর ফিফা সভাপতির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে নতুন মেয়াদ শুরু করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছিল।
পেইনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইনফান্তিনোর জন্য ফিফা সভাপতির পদে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এখন তাঁর জন্য এই মাসটিও পার করা কঠিন হবে। তিনি নিজেকে এমন সংকটে ফেললেন কীভাবে? পেইনের ভাষায়, এটা ছিল চরম ঔদ্ধত্যের ফল। ৫৬ বছর বয়সী সুইস এই ক্রীড়া সংগঠকের জন্য পরিস্থিতি যে ভালো নয়, সেটিও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাক্যাফ। কনকাক্যাফের সদস্যদের মধ্যে সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোও রয়েছে।
উয়েফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর ‘বিতর্কিত চুক্তি’ তাদের তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা নষ্ট করেছে। অন্যদিকে কনকাক্যাফ বলেছে, এই সভাপতিত্ব নিয়ে ‘সর্বাত্মক জবাবদিহি’ প্রয়োজন। আইওসির বিপণন বিভাগে প্রায় দুই দশক কাজ করা পেইন মনে করেন, ইনফান্তিনো যদি পদে বহাল থাকেন, তাহলে বিশ্ব ফুটবলে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে। ৬৮ বছর বয়সী এই আইরিশ ক্রীড়া প্রশাসক বলেন, খেলাধুলার এই জগতে ‘কখনোই না’—এ কথা তিনি বলেন না। কিন্তু ইনফান্তিনোর টিকে থাকতে এখন অলৌকিক কিছু ঘটতে হবে। ছোট দেশগুলোর ওপর যতই লবিং বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হোক না কেন, তাতে তাঁকে বাঁচানো যাবে বলে তিনি মনে করেন না।
পেইনের ভাষায়, তাঁর নেতৃত্ব এখন এতটাই বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে যে তিনি পদে থাকলে বিশ্ব ফুটবলে চরম বিপর্যয় দেখা দেবে। বড় বড় ফুটবল শক্তিগুলো আলাদা পথে হাঁটতে পারে, এমনকি বয়কটের ঘটনাও ঘটতে পারে।


