ফুটবল বিশ্বে ডাকনাম অনেক সময়ই খেলোয়াড়ের আসল পরিচয়কে ছাপিয়ে যায়। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক জোসিমার এভোরা দিয়াসও তার ব্যতিক্রম নন—সবাই তাকে ‘ভোজিনিয়া’ নামেই চেনেন। কিন্তু চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোতে যোগ দিতে গিয়ে তাকে এক অদ্ভুত বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে: নতুন ক্লাবে সেই জনপ্রিয় ডাকনামটি জার্সিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তিনি।
‘ভোজিনিয়া’ নামের পেছনে রয়েছে শৈশবের মজার গল্প। পর্তুগিজ ভাষায় শব্দটির অর্থ ‘দাদি’। ছোটবেলায় নানা-নানির কাছেই বড় হয়েছেন জোসিমার। পাড়ার বড় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে প্রায়ই হেরে যেতেন বা চোট পেয়ে রাগ করে বাড়ি ফিরতেন। তখন বন্ধুরা ঠাট্টা করে বলত, তিনি বুঝি দাদির কাছে নালিশ করতে যাচ্ছেন। সেই মজার ডাকই ধীরে ধীরে তাঁর পরিচয় হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘ভোজিনিয়া’ নামটি কেপ ভার্দের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও ছড়িয়ে পড়ে; বিশ্বকাপের মঞ্চেও তাঁকে সবাই এই নামেই চিনেছে।
আশ্চর্যের বিষয়, তাঁর আসল নাম ‘জোসিমার’ হওয়ার পেছনেও আছে আরেকটি বিশ্বকাপ স্মৃতি। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ চলাকালীনই তাঁর জন্ম। সেই আসরে ব্রাজিলের রাইটব্যাক জোসিমার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করেছিলেন অসংখ্য দর্শককে। কেপ ভার্দিয়ান সেনাবাহিনীতে কর্মরত তাঁর বাবা দূর থেকে ব্রাজিলের খেলা দেখে মুগ্ধ হন এবং ছেলের নাম রাখতে চেয়েছিলেন সেই ব্রাজিলিয়ান তারকার নামেই। তবে মজার বিষয় হলো, তাঁর বাবার প্রথম পছন্দ ছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হোর্হে ভালদানোর নাম। কিন্তু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেই নাম অনুমোদন না করায় শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় পছন্দ ‘জোসিমার’ নামেই নিবন্ধিত হন তিনি।
বর্তমানে জোসিমার এভোরা দিয়াস চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোয় পৌঁছেছেন। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা ও চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। কোলো-কোলোর সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক চুক্তি হবে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত। পারফরম্যান্স সন্তোষজনক হলে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। তবে ক্লাবে যোগ দেওয়ার আগেই সামনে এসেছে জার্সির নাম নিয়ে জটিলতা।
চিলির পেশাদার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ফুটবলার জার্সিতে ডাকনাম বা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারবেন না। খেলোয়াড়ের পিঠে থাকতে হবে তাঁর বাবার বা মায়ের বংশগত পদবি। প্রয়োজনে নামের প্রথম অক্ষর যোগ করা যেতে পারে, কিন্তু জনপ্রিয় ডাকনাম ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফলে কোলো-কোলোর জার্সিতে ‘ভোজিনিয়া’ লেখার পরিবর্তে তাঁকে বেছে নিতে হবে নিজের দুটি পারিবারিক পদবির একটি—‘এভোরা’ অথবা ‘দিয়াস’।
অবশ্য একটি পথ এখনো খোলা আছে। কোলো-কোলো যদি চিলি ফুটবল কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ অনুমতি চায় এবং সেটি অনুমোদিত হয়, তাহলে ব্যতিক্রম হিসেবে জার্সিতে ‘ভোজিনিয়া’ লেখার সুযোগ মিলতে পারে। এই অনুমতি পাওয়া না পাওয়ার বিষয়টি এখন দেখার।




