আমেরিকার অন্যতম সমৃদ্ধ প্রযুক্তি নগরী হিসেবে পরিচিত সিয়াটল এখন এক ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করছে। মাত্র এক দশক আগেও অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের কল্যাণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমের এই শহরটি ইঞ্জিনিয়ার, নির্বাহী ও মূলধনের চুম্বকে পরিণত হয়েছিল। পুজেট সাউন্ড রিজিওনাল কাউন্সিলের তথ্যানুযায়ী, সমৃদ্ধির শীর্ষ সময়ে শহরটিতে বছরে প্রায় ৪০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। তবে বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন। কুশম্যান অ্যান্ড ওয়েকফিল্ডের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে সিয়াটলের ডাউনটাউনে অফিস শূন্যতার হার দাঁড়িয়েছে ৩৫.৬ শতাংশে, যা এক বছর আগেও ছিল ৩২.৩ শতাংশ। কোস্টার ও কলিয়ার্সের মতো প্রতিষ্ঠানের তথ্য আরও উদ্বেগজনক—২০২৪ সালের শেষের দিকে এই হার ৩৯.১ শতাংশে পৌঁছেছিল। দূরবর্তী কাজের প্রবণতা, প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাই ও সতর্ক লিজিং সিদ্ধান্ত এই শূন্যতা বাড়িয়েছে। ফলে অফিস ভবনের মূল্য ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে এবং বড় ভাড়াটিয়াদের হারিয়ে মালিকরা সংকটে পড়েছেন।

চাকরির বাজারের পতন এই অফিস সংকটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এক্সিওসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে সিয়াটল মেট্রো এলাকায় চাকরির পোস্টিং ৩৫ শতাংশ কমে গেছে। শুধু সান ফ্রান্সিসকোতেই এর চেয়ে বেশি (৩৭%) পতন হয়েছে। মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও ব্লু অরিজিনের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সাল থেকে হাজার হাজার চাকরি কমিয়েছে। ২০২৫ সালে পুরো অঞ্চলে নিট ১৩ হাজার কর্মসংস্থান হারিয়েছে—মহামারীর পর প্রথমবারের মতো বার্ষিক পতন, যা সমৃদ্ধির সময়ের ৪০ হাজার চাকরি বৃদ্ধির সম্পূর্ণ বিপরীত।

এই অর্থনৈতিক সংকোচনের মধ্যে এসেছে মজুরি নীতির চাপ। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সিয়াটলে ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ২০ দশমিক ৭৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের আকার নির্বিশেষে সব নিয়োগকর্তার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। লেবার ইকোনমিক্স জার্নালে প্রকাশিত এক পর্যালোচিত গবেষণায় দেখা গেছে, এই মজুরি আইনের ঘোষণা প্রভাব সিয়াটলের সীমানার মধ্যে নতুন ব্যবসা গঠনে বাধা দিয়েছে, তবে পার্শ্ববর্তী শহরতলিতে ইতিবাচক 'স্পিলওভার' সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের গবেষণায়ও দেখা গেছে, মজুরি বৃদ্ধি কম বেতনের শ্রমিকদের কাজের সময় প্রায় ৯ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে, যদিও ঘণ্টাপ্রতি বেতন প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।

সিয়াটলের পরিস্থিতি অন্যান্য আঞ্চলিক মন্দা থেকে আলাদা কারণ এই তিনটি ধারা—অফিসের পতন, শ্রমবাজারের বিপর্যয় ও নীতিগত চাপ—একত্রে জড়িয়ে পড়েছে। কোস্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের আগে সিয়াটল শূন্যতার চক্র থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারবে না। এই সময়সীমা ধরে নিয়েছে যে প্রতিক্রিয়া লুপ আরও শক্ত হবে না, কিন্তু এখন পর্যন্ত তা শিথিল হয়নি। উল্লেখ্য, ফরচুনের সাংবাদিকরা এই প্রতিবেদনের জন্য গবেষণার সরঞ্জাম হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেছেন এবং প্রকাশের আগে একজন সম্পাদক তথ্যের সঠিকতা যাচাই করেছেন।