বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির প্রযুক্তি খাত ও শেয়ারবাজারের মধ্যে যোগসূত্র ক্রমশ দৃঢ় হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্নেষণে দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক কপি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিখাতভিত্তিক সূচক ন্যাসড্যাক ১০০-এর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।
রাইলেন্ট নামক একটি তথ্য সরবরাহকারী সংস্থার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দুই সূচকের ৬০ দিনের পারস্পরিক সম্পর্ক সহগ (কোরিলেশন) সম্প্রতি প্রায় ০.৫০-এ উন্নীত হয়েছে। এই স্তরটি ২০২১ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ, যা দুই বাজারের ক্রমবর্ধমান একীকরণের ইঙ্গিত বহন করে।
পরিসংখ্যান বলবিজ্ঞানের ভাষায়, দুটি চলকের মধ্যে সম্পর্কের মাত্রা নির্দেশ করে কোরিলেশন সহগ। এই সহগের মান ০ থেকে ১-এর মধ্যে ওঠানামা করে, যেখানে ১ অর্থ পূর্ণ সামঞ্জস্য। সুতরাং, ০.৫০-এ পৌঁছানো একটি মধ্যম থেকে শক্তিশালী ইতিবাচক সম্পর্কের ইশতেহার করে, অর্থাৎ একটি সূচক বাড়লে অপরটিরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে।
ওয়াল স্ট্রিটের প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারের এই নিবিড় সম্পর্কের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের পরিবর্তন। দক্ষিণ কোরিয়া, স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ও এসকে হাইনিক্সের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টের আবাসস্থল হওয়ায়, মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সাফল্য বা ব্যর্থতার সঙ্গে এর অর্থনীতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এরই প্রতিফলন ঘটছে শেয়ার বাজারে।
এ প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করেছে রাইলেন্ট, এবং সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে ২৮ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এখন এশীয় প্রযুক্তি বাজার এবং মার্কিন প্রযুক্তি বাজার প্রায় সমার্থক ধারণায় পরিণত হয়েছে। তাই একটিতে অস্থিরতা দেখা দিলে অন্যটিতে তা দ্রুত সংক্রমিত হয়।




