ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে ঘরের ভেতরেই আটকা পড়তে হয় তাঁকে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনও অকেজো হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ভাতিজা রাহিন জানতে চায়, তিনি নাকি অত্যন্ত দ্রুত অঙ্ক কষতে পারেন। জবাবে তিনি সম্মতি জানান। এরপর রাহিন তাঁকে ৩৪ ও ১১ গুণ করতে বলে। তিনি তৎক্ষণাৎ উত্তর দেন ৩৭৪।
রাহিন এই দ্রুততার কারণ জানতে চাইলে তিনি ব্যাখ্যা করেন, এটি আসলে একটি সহজ কৌশল। ১১ দিয়ে যে কোনো সংখ্যাকে গুণ করতে প্রথম ও শেষ অঙ্কটি যথাস্থানে রেখে মাঝের অঙ্কগুলো পাশাপাশি দুটি অঙ্কের যোগফল দিয়ে পূর্ণ করতে হয়। যেমন ৩৪-এর ক্ষেত্রে ৩ ও ৪-এর মাঝে বসে ৩ ও ৪-এর যোগফল ৭। ফলে উত্তর হয় ৩৭৪। রাহিন নিজেই মোবাইল দিয়ে যাচাই করে সঠিক উত্তর পেয়ে উৎসাহিত হয়।
এরপর রাহিন আরও বড় একটি সংখ্যা ৫৩১৭২-কে ১১ দিয়ে গুণ করার চ্যালেঞ্জ দেয়। তিনি ধাপে ধাপে বোঝান—প্রথম অঙ্ক ৫, শেষ অঙ্ক ২ অপরিবর্তিত থাকবে। মাঝের অঙ্কগুলো পেতে ৫+৩=৮, ৩+১=৪, ১+৭=৮, ৭+২=৯ বসালে পাওয়া যায় ৫৮৪৮৯২। রাহিন তা যাচাই করে সঠিক বলে নিশ্চিত হয়।
তবে সমস্যা দেখা দেয় যখন ৬২৫৮ সংখ্যাটিকে ১১ দিয়ে গুণ করতে বলা হয়। কারণ ৫ ও ৮-এর যোগফল ১৩, যা দুই অঙ্কের। এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ কৌশল ব্যবহার করতে হয়। সংখ্যাটির দুই পাশে কাল্পনিক বিন্দু বসিয়ে ডান দিক থেকে পাশাপাশি অঙ্ক যোগ করতে হয়। ৮+০=৮, ৫+৮=১৩ (৩ লিখে ১ হাতে), ২+৫=৭ ও হাতের ১ যোগে ৮, ৬+২=৮ এবং ০+৬=৬ বসিয়ে উত্তর হয় ৬৮৮৩৮। রাহিন এই পদ্ধতি নিজেই ৫৬১৯ × ১১-তে প্রয়োগ করে ৬১৮০৯ উত্তর বের করে ফেলে।
শেষ পর্যন্ত রাহিন ১১ দিয়ে গুণের এই মজার কৌশলটি আয়ত্ত করে ফেলে। গ্রামের বৃষ্টিমুখর দিনটি গণিতের একটি চমৎকার শিক্ষায় পরিণত হয়।




