ক্যাডেট কলেজে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য বাংলা ব্যাকরণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সম্প্রতি শিক্ষক মহলে আলোচিত হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের তৈরি এই তালিকায় ভাষার গঠন ও ব্যবহার নিয়ে নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন কারক ও বিভক্তির প্রয়োগ। উদাহরণস্বরূপ, 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ' বাক্যটিতে 'আমারে' পদটি সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তির উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে, 'নৌকা ঘাটে বাঁধা' বাক্যটিতে 'ঘাটে' শব্দটি অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তির নিদর্শন।
বাংলা ব্যাকরণের করণ ও অপাদান কারকের ব্যাখ্যাও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। 'ধর্মের কল বাতাসে নড়ে' বাক্যটিতে 'বাতাসে' শব্দটি করণে সপ্তমী বিভক্তি নির্দেশ করছে। অন্যদিকে, 'তিলে তৈল হয়' বাক্যটিতে 'তিল' শব্দটি অপাদান কারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের উদাহরণ কারক ও বিভক্তির ধারণা স্পষ্ট করতে সহায়ক। এছাড়া 'খেজুর রসে গুড় হয়' বাক্যটিতে 'খেজুর রসে' শব্দটিও অপাদানে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভিন্ন প্রকার কর্তার ধারণাও এই তালিকায় উঠে এসেছে। 'বাঘে-মহিষে এক ঘাটে পানি খায়' বাক্যটিতে 'বাঘে-মহিষে' পদটি ব্যতিহার কর্তার উদাহরণ। অন্যদিকে, 'সর্বাঙ্গে ব্যথা ঔষধ দিব কোথা?' বাক্যটির নিম্নরেখ শব্দটি অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির নমুনা। 'জিজ্ঞাসিব জনে জনে' বাক্যটিতে 'জনে জনে' পদটি কর্মে সপ্তমী বিভক্তি নির্দেশ করছে, আর 'আমি কি ডরাই সখি ভিখারী রাঘবে?' বাক্যটিতে 'রাঘবে' শব্দটিও কর্মে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।
চলিত ও সাধু ভাষার ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। 'চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য কোনটি?'—এর উত্তরে বলা হয়েছে ভাষারীতি সরল ও সাবলীল। নাটকের সংলাপের উপযোগী ভাষা হিসেবে চলিত রীতিকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া সন্ধির উদ্দেশ্য হিসেবে ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন এবং ভাষার 'সংবিধান' হিসেবে ব্যাকরণের গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলা বর্ণমালায় কার চিহ্ন ১০টি এবং মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি বলে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রশ্নোত্তর তালিকা ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।




