ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে দেখতে শনিবার বিকেলে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এবং ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার পটভূমি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে গ্যাসচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর কিছুদূর গিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি চোখে গুরুতর আঘাত পান। এর আগে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নামে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করে তাঁর কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। হামলার পর আবারও হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই ঘটনার পর পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তৎপরতা চালিয়ে লক্ষ্মীপুর থেকে একজন, ঢাকা থেকে দুজন এবং ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আজই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—বিশেষ করে ডিএমপিসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের অতি দ্রুত হেফাজতে নিতে হবে এবং আইনের আওতায় আনতে হবে। যারা এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ধনাঢ্য ব্যক্তি, পেশাজীবী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের লক্ষ্য করে মেসেজ পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। চাঁদাবাজেরা রাতারাতি কোটিপতি হতে চায়। তারা বিভিন্ন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দাগি আসামি ও গডফাদারদের নামও ব্যবহার করে। হামলার মূল হোতা হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে কিছু সন্ত্রাসীকে একত্রিত করে এই চাঁদাবাজি প্রক্রিয়া শুরু করে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

পুলিশের প্রশংসা করলেও আরও কাজ বাকি আছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রকে নির্মূল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। শুধু চাঁদাবাজদের তালিকাই নয়, চাঁদাবাজির সঙ্গে যদি কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকেন, তাদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চিত করেন।

চিকিৎসক ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে বিশেষ নিরাপত্তাঝুঁকি বোধ করলে পুলিশকে জানাতে পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া দেশের যেকোনো নাগরিক বিদ্যমান আইনের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শটগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক যদি নিজের নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন বোধ করেন এবং আবেদন করেন, তবে সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ওই এলাকায় গান, বাজনা ও সিনেমা বহু বছর ধরে প্রায় নিষিদ্ধের মতো অবস্থায় রয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় পরিবেশ ও অবস্থা বিবেচনায় যেখানে যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেটিই নেওয়া হয়েছে।

পরে মন্ত্রী ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে গিয়ে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখেন এবং তাঁর খোঁজখবর নেন।