বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও গত সোমবার এইচএসসি–সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। সেই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে কেউ কেউ ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চায়।

সালাউদ্দিন আহমদের মতে, সরকারকে বিব্রত করতে একটি নির্দিষ্ট মহল কাজ করছে, যারা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত পরীক্ষার্থী নন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং প্রকৃত পরীক্ষার্থীরা সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট বলে দাবি করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই আন্দোলনকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না, কারণ আন্দোলনকারীদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সচিবালয়ে ঢুকে দাবি আদায়, পরীক্ষা স্থগিত বা বিনা পরীক্ষায় পাসের মতো ‘অপসংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেই প্রবণতার ধারাবাহিকতা এখনো দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সালাউদ্দিন আহমদ।

বর্তমান সরকার শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হতে দেবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং বাংলাদেশের শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করে জ্ঞানসমৃদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক একটি জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

জুলাই–গণঅভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আমলে অটোপাস, অতিরিক্ত নম্বর প্রদান ও ঢালাওভাবে জিপিএ-৫ দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এসব কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের কঠোর ব্যবস্থা না নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।