শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ভূমিকা বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার যে আলোচনা চলছে, তার প্রতিবাদে সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয় নিয়ে আয়োজিত এই বিক্ষোভে কেন্দ্রীয় নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল রাখার দাবি এবং প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতি প্রত্যাখ্যানের স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনুষদ অতিক্রম করে প্রধান ফটক দিয়ে বেরিয়ে শাঁখারী বাজার ও জনসন রোড হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় ঘুরে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘মেধার মূল্যায়ন চাই’, ‘এনটিআরসিএ বহাল রাখতে হবে’, ‘শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি চলবে না’, ‘কমিটি পদ্ধতি মানি না, মানব না’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এনটিআরসিএর মাধ্যমে মেধা, যোগ্যতা এবং পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হচ্ছে। সেই পদ্ধতির বদলে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির কাছে নিয়োগপ্রক্রিয়া তুলে দিলে নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তারা মনে করেন, দেশের লাখো নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগের ওপর ভরসা রেখেই শিক্ষকতা পেশায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই নিয়োগ কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আনার আগে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া জরুরি বলে মত দেন তারা।

সমাবেশে বাংলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হুসাইন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই হঠকারী সিদ্ধান্তকে ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছেন তারা। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো গড়িমসি করা যাবে না।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা বহাল রাখা, মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের উদ্বেগের বিষয়টি আমলে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি, দাবি আদায় না হলে পরবর্তী পর্যায়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।