নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রতিষ্ঠিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাসের ধারা অব্যাহত রেখেছে। তবে এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় মোট ৩৬ জন অংশ নেয় — বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০ জন এবং মানবিক বিভাগ থেকে ১৬ জন। সবাই কৃতকার্য হয়েছে। গত বছর ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজন জিপিএ-৫ পেয়েছিল এবং শতভাগ পাসের রেকর্ড ছিল। এর আগের বছরগুলোতেও প্রতিষ্ঠানটি একই সাফল্য দেখিয়েছে।
শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান জানান, ২০০৬ সালে হুমায়ূন আহমেদ এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১০ সাল থেকে এখানকার শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রতি বছর শতভাগ পাস করে আসছে। নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ পাঠদানের কারণেই এই ফল সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। আগামীতেও এই ধারা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিন একর জমির ওপর স্থাপিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এক সময় ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলীর কারণে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করত। ২০০৬ সালে সেখানে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দুয়ার কুতুবপুরের এই বিদ্যাপীঠ নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের অনেক স্বপ্ন ছিল।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তুহিন সরকার বলেন, হুমায়ূন আহমেদ চেয়েছিলেন শহরের শিক্ষার্থীরা একদিন তার স্কুলে পড়তে আসবে। এখন শহর থেকে না এলেও আশপাশের অর্ধশতাধিক গ্রামের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মেয়ে সাইকেলে করে বিদ্যালয়ে আসে।
জিপিএ-৫ না পাওয়া নিয়ে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান কোনো আক্ষেপ প্রকাশ করেননি। তার ভাষ্য, কেবল ভালো ফল বা জিপিএ-৫ করলেই যে কেউ ভালো শিক্ষার্থী হয়ে ওঠে, তা তারা মনে করেন না। হুমায়ূন আহমেদও কখনো এটা ভাবতেন না বলে জানান তিনি। তার মতে, হুমায়ূন আহমেদের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীরা যেন মানবিক, দেশপ্রেমিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে। সেদিকেই তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বর্তমানে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৩২৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ২১ জন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে এ বিদ্যাপীঠ নিয়ে গর্বের শেষ নেই। এক অভিভাবক বাচ্চু মিয়া জানান, তার ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এখানে পড়ছে। প্রতি বছর প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে। শিক্ষকেরা শুধু শ্রেণিকক্ষেই নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়েও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজ নেন। এমন বিদ্যালয় পেয়ে তারা গর্বিত।
অপরদিকে, নেত্রকোনা জেলায় এবার পাসের হার ৬০ দশমিক ৪৯ শতাংশ, যা ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, ফলাফল আরও ভালো করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।




