ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মঞ্জুর এলাহী অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত হলো ‘পরিবর্তনের চাবিকাঠি: আজকের জিজ্ঞাসা’ শীর্ষক এক পাবলিক লেকচার। এই আয়োজনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি তার বক্তৃতায় পরিবর্তনের জন্য ছয়টি মূল চালিকা শক্তির কথা উল্লেখ করেন— বর্ণনা (ন্যারেটিভ), প্রতিষ্ঠান (ইনস্টিটিউশন), সামাজিক রীতিনীতি (নর্মস), উদ্যোগ (ইনিশিয়েটিভস), ক্ষমতা (পাওয়ার) এবং গোষ্ঠীতন্ত্র (ইন্টারেস্টেড গ্রুপ)। এই শক্তিগুলোর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে, সেটি তিনি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘গার্মেন্টস ও রেমিট্যান্সের মতো সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে আমাদের বের হতে হবে। রাষ্ট্রীয় আচারে আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে ধারণ করতে পারছি না। তারুণ্যের আধিক্য বা ডেমোগ্র্যাফিক ডিভেডেন্ডও খুব একটা কাজে লাগাতে পারছি না।’ তিনি উল্লেখ করেন, এসব কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক জায়গায় আটকে গেছে। ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য তিনি কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়ার ওপর জোর দেন। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র ধারণার সংস্কার— যেখানে রাষ্ট্রকে মানুষের ওপরে নয়, বরং মানুষের জন্য কল্পনা করতে হবে। এছাড়া পেশাদারদের মধ্যে পেশাদারত্বের ঘাটতি কমানো, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বচ্ছতার মতো সামাজিক রীতিনীতি পরিবর্তনের কথাও বলেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪-এর উদাহরণ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, এটাই এ দেশের ইতিবাচক দিক। সংকটের সময়ে এ দেশের নাগরিকদের নানান উদ্যোগ ও উদ্ভাবনা সংকট কাটাতে কাজে লেগেছে।’ অনুষ্ঠানের সভাপতি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘উন্নয়নের সুফল সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এসব মানুষের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যে বিশেষ নজর দিতে হবে। আমাদের সমাজে ন্যায্যতার যে ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করতে হবে।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।




