সপ্তাহের শুরুতে রাজধানীবাসীর জন্য বড় দুর্ভোগ নিয়ে হাজির হয়েছে মৌসুমের তীব্র বৃষ্টি। রোববার সকাল থেকে অফিসমুখী যাত্রীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বিভিন্ন সড়কে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে। গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল। শনিবার গভীর রাত থেকে শুরু হয়ে রোববার সকাল পর্যন্ত টানা বর্ষণ চলতে থাকে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সকাল ৬টা পর্যন্ত মাত্র ৬ ঘণ্টায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ।
কাজীপাড়া এলাকায় নিজের গাড়ি নিয়ে আটকা পড়া আসিফ হোসেন জানান, তিনি অফিসের কাজে নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার জন্য সকালে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সাড়ে ৭টার দিকে কাজীপাড়ায় ইঞ্জিনে পানি ঢুকে পড়ায় তার গাড়ি সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। তিন ঘণ্টা ধরে ওই স্থানে বসে থাকা অবস্থায় তিনি বলেন, সামনে আগানোর কোনো উপায় নেই, আবার বাসায় ফেরারও অবস্থা নেই। কাজীপাড়া এলাকায় মেট্রোরেল চলাচল করলেও সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপরিমাণ পানি জমে গেছে। এর ফলে গণপরিবহনের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
একই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন মো. শিমুল। তিনি বলেন, ৪০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছি, কখন বাস আসবে তা কেউ বলতে পারে না। অপেক্ষা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কাজীপাড়া পেরিয়ে শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও এলাকার চিত্রও একই রকম। সড়কের কোথাও কোথাও পানি জমে আছে, আর বৃষ্টিতে ভেজা মানুষের দীর্ঘ লাইন গণপরিবহনের অপেক্ষায়। দুর্গত সড়কে একটি মাত্র বাস চলাচল করতে দেখা গেছে।
সায়রা বেগম নামের এক নারী আগারগাঁও এলাকায় মহাখালী যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি জানান, এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকার পরও কোনো যানবাহন পাওয়া যায়নি। অসহনীয় অবস্থায় তিনি বলেছেন, মহাখালীতে তার অফিস, কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে পারবেন কি না তা নিশ্চিত নন। অপরদিকে শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শেওড়াপাড়া শাখা-৩–এর সামনের প্রধান সড়ক ও সংলগ্ন অলিগলি পানি ডুবে গেছে। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা বৃষ্টির কারণে স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে পুরো রাজধানীবাসী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।




