গত পাঁচ বছর ধরে মার্কিন হাসপাতালগুলোর নগদ প্রবাহ ও পরিচালন পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে মজবুত ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ‘বিগ বিউটিফুল বিল’-এর আওতায় বাস্তবায়িত কাটছাঁট কর্মসূচি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। খাতটির সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা সত্ত্বেও নতুন এই নীতির কারণে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাসপাতালগুলো ভালো অবস্থানে থাকলেও নতুন বিলের কিছু বিধান তাদের রাজস্ব কাঠামোয় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচিগুলোতে প্রত্যাশিত হ্রাস এবং কিছু ক্ষতিপূরণ নীতির পরিবর্তনের কারণে হাসপাতালগুলোর আয়ের উৎস সংকুচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানকে বাজেট ঘাটতির মুখোমুখি হতে হতে পারে এবং সেবার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

যদিও বিলটির মাধ্যমে কিছু খাতে ব্য�় কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে, স্বাস্থ্যখাতের সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন যে, এই সাশ্রয়ের ফলে দীর্ঘমেয়াদে হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের ছোট হাসপাতালগুলোতে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে, যেখানে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে। বড় শহরগুলোর প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য হবে।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা সরকারের কাছে এই কাটছাঁট পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার মান অটুট রাখতে হলে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা জরুরি, অন্যথায় চিকিৎসা খরচ বেড়ে যেতে পারে এবং রোগীদের ওপর চাপ পড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে খরচ কমানোর বিকল্প পথ খুঁজতে হবে বলে তাঁরা মত দিয়েছেন।

যদিও এখনই চূড়ান্ত প্রভাব নিরূপণ করা সম্ভব নয়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এই বিলের ফলে স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সরকারের নীতিগত পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে থাকবে খাত সংশ্লিষ্টরা।