নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে লাথি মারার ঘটনায় তাকে টিসি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর অবশেষে সেই শিক্ষার্থী আবারও বিদ্যালয়ে ফিরেছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গত রোববার থেকেই ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসা শুরু করেছে এবং আজ সোমবারও তাকে শ্রেণিকক্ষে দেখা গেছে।

এর আগে গতকাল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে বিদ্যালয়ে ডেকে পাঠান কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন প্রধান। এ সময় তাকে নিয়মিতভাবে স্কুলে এসে পড়াশোনা করার জন্য বলা হয়। ওই ছাত্রীর বাবা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ডেকে তাঁর মেয়েকে স্কুলে পড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরই প্রধান শিক্ষক তাঁর মেয়েকে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেন। ফলে তাঁর পরিবার বেশ খুশি বলে জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন প্রধান জানান, শিক্ষার্থীর প্রতি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ খেয়াল রাখবে। এ বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই বলেও তিনি জানান। জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর প্রতি যেন কোনো অন্যায় না হয়, প্রশাসন সব সময় বিষয়টি তদারক করবে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল ইউনিফর্ম পরা এক ছাত্রীকে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়েতে পেছন থেকে লাথি মারছে এক কিশোর। ছাত্রীটি প্রতিবাদ করলেও তাকে আবারও লাথি মারা হয়। ভিডিওটি ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে সালিসের আয়োজন করে, যেখানে তাকে শাস্তিস্বরূপ কান ধরে ওঠবস করানো হয়।

ঘটনার জেরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তার পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের মেয়েকে স্কুলে আসতে নিষেধ করেছিল। এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে সোনারগাঁ পুলিশ রংপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে অভিযুক্ত কিশোরকে ধরে এনে থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় সমাজসেবা বিভাগের প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।