মধ্য ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র লিচেনস্টাইনে রাজকীয় উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে নারীরাও এখন সিংহাসনে আরোহণের সুযোগ পাবেন। দেশটির জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। মাত্র ৪৪ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটি সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত।

১৯৮৯ সাল থেকে যুবরাজ দ্বিতীয় হান্স-আডাম এই রাজপরিবারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার প্রথম সন্তান যুবরাজ আলোইস বর্তমান উত্তরাধিকারী, এবং নতুন এই নিয়ম পরিবর্তনে তার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। গত দুই দশক ধরে রাজপরিবারের অধিকাংশ আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করছেন যুবরাজ আলোইস।

লিচেনস্টাইন হাউসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'উত্তরাধিকারের এই ক্রম পরিবর্তন করা হলো পুরুষ অগ্রাধিকার নীতি থেকে সম্পূর্ণ অগ্রাধিকার নীতিতে।' অর্থাৎ, ভবিষ্যতে যেকোনো লিঙ্গের প্রথম সন্তানই সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হবে এবং পরে সে দেশের রাজপুত্র বা রাজকন্যা হিসেবে পরিচিত হবে।

নতুন এই আইন এখনই উত্তরাধিকার ক্রমে কোনো পরিবর্তন আনবে না। যুবরাজ আলোইস ও তার স্ত্রী হেরেডিটারি প্রিন্সেস সোফির চার সন্তানের বংশধরদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। যুবরাজ আলোইস এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত করতে চান যে প্রিন্সিপালিটি এবং রাজপরিবার উভয়ই সেই ব্যক্তির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে, যে এই দায়িত্বের জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত।

ইউরোপের অন্যান্য রাজপরিবারের তুলনায় লিচেনস্টাইনের শাসক বেশ বিস্তৃত রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে যুক্তরাজ্যও তাদের উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তন করে রাজপরিবারের প্রথম কন্যা সন্তানকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার অনুমতি দেয়।