প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতায় উদ্বুদ্ধ করতে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’ বা বিজ্ঞানভিত্তিক খেলার সরঞ্জাম। রাজধানীর এক হোটেলে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার (এফএলএটি)’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, শিশুরা যেন কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা ও হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে বিজ্ঞান শিখতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। শেখাকে আনন্দময় ও বাস্তবমুখী করতে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিজ্ঞান, গণিত, ডিজাইন এবং সৃজনশীলতায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হবে ‘ম্যাথ ল্যাব’। সেখানে বিভিন্ন উপকরণের সাহায্যে শিশুরা আকার, আকৃতি, যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের মতো মৌলিক গণিতের ধারণাগুলো সহজে আয়ত্ত করতে পারবে। ভিত্তিগত শিক্ষার ঘাটতি দূর করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য প্রতিটি শিশুর পড়া, লেখা ও গণিতে মজবুত ভিত্তি তৈরি করা। এই পর্যায়ে ভিত্তি দুর্বল থাকলে তা পুরো শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিদ্যালয়-বহির্ভূত শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা এবং ঝরে পড়া রোধে নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, শিশুদের স্কুলে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো ‘বিনা মূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।
মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্পর্কে ববি হাজ্জাজ বলেন, পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা থেকে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়েছে তা সংশোধন করে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি প্রকল্পে শক্তিশালী মনিটরিং ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




