মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুয়াল্লাপ রিজার্ভেশনের চিফ লেশি স্কুলের এক শিক্ষার্থী গেরাল্ড ডিলনের কাহিনি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ডিলন তার একাডেমিক কোর্সের বেশিরভাগ অংশ বাদ দিয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন। দ্বিতীয় শ্রেণির ছোটদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে তিনি স্কুলে আসার নতুন উদ্দেশ্য খুঁজে পান। তিনি জানান, আগে পড়াশোনায় তার তেমন আগ্রহ ছিল না, কিন্তু হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পাওয়ার পর থেকে তার গ্রেডও উন্নত হয়েছে। গত জুনে তিনি স্নাতক হন এবং এখন শিক্ষকতা ডিগ্রি নেওয়ার কথা ভাবছেন।
চিফ লেশি স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট ডন ব্রুমেট জানান, পূর্বে স্কুলটি শুধু কলেজমুখী শিক্ষায় জোর দিত, যা অনেক শিক্ষার্থীর কর্মজীবনের লক্ষ্যের সঙ্গে মেলেনি। তিনি বলেন, "আমরা কারিগরি শিক্ষার মূল্য কমিয়ে দিয়েছিলাম, যা ভুল ছিল।" ২০২০ সালে পুয়াল্লাপ ট্রাইবাল কাউন্সিলের অর্থায়নে স্কুলটি ক্যারিয়ার ও কারিগরি পাঠ্যক্রম চালু করে। এর ফলে যে সব শিক্ষার্থী অন্যথায় ঝরে পড়ত, তারা স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, শিক্ষা ও মৎস্য ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্কুলে টিকে থাকতে উৎসাহিত হচ্ছে।
বিআইই’র অধীনে থাকা ১৮৩টি স্কুলে মোট ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়ে। ২০১৫ সালে এসব স্কুলের স্নাতক হার ছিল মাত্র ৫৩ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯ শতাংশে। বিআইই কর্মকর্তারা এই সাফল্যের কৃতিত্ব স্থানীয় উদ্যোগ ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতির উন্নতিকে দিচ্ছেন। বিআইই’র প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কারমেলিয়া বেসেন্টি জানান, ২০১৮ সাল থেকে তারা তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি মানসম্মত করতে শুরু করে। এর আগে অনেক স্কুল অন্য স্কুলে চলে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া হিসেবে গণনা করত। এখন আরও সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এপির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন পদ্ধতি চালুর পর বিআইই স্কুলগুলোর স্নাতক হার ৫৫ শতাংশ বেড়েছে।
তবে সব জায়গায় একই চিত্র দেখা যায় না। সাউথ ডাকোটার ক্রো ক্রিক সিওক্স ট্রাইবের চেয়ারম্যান পিটার লেঙ্গকিক জানান, তাদের বিআইই-পরিচালিত স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। জিমনেশিয়ামের দেয়াল ধসে পড়ছে, ইঁদুরের উপদ্রব রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই স্কুলের স্নাতক হার ৬০ শতাংশের নিচে ছিল। তিনি বলেন, "আমরা যদি পারতাম, তাহলে নিজেরাই এসব সমস্যা সমাধান করে দিতাম। কিন্তু সরকারকে তার চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।"
অন্যদিকে, মিসিসিপি ব্যান্ড অব চক্টোর অধীনে থাকা চক্টো সেন্ট্রাল হাই স্কুলে করোনা মহামারির সময় ভার্চুয়াল শিক্ষার পরীক্ষা স্নাতক হার ৭০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯৩ শতাংশে নিয়ে গেছে। অধ্যক্ষ অ্যালারিক কিমস জানান, যেসব শিক্ষার্থীর বাড়িতে দায়িত্ব বেশি বা যাদের কাজ করতে হয়, তাদের জন্য অনলাইন শিক্ষা নমনীয় সময়সূচি দিয়েছে। মহামারি শেষ হলেও স্কুলটি এই সুযোগ বহাল রেখেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিআইই’তে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। শিক্ষা বিভাগ ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা ও ডিওজিই’র মাধ্যমে করা ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে শিক্ষা বিভাগ নেটিভ শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০টির বেশি প্রোগ্রামের দায়িত্ব বিআইই’র কাছে হস্তান্তর করে। ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে এক ট্রাইবাল পরামর্শ সেশনে কয়েক ডজন ট্রাইবাল নেতা এর বিরোধিতা করেন। তাঁরা বলেন, ইতোমধ্যেই কর্মী সংকটে থাকা বিআইই’র ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপানো হচ্ছে। চেইয়েন ও আরাপাহো ট্রাইবের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হার্শেল গোরহাম অভিযোগ করেন, "চুক্তি সই হওয়ার পর আমাদের জানানো হয়েছে। এটা কখনোই হওয়া উচিত নয়।"
ন্যাশনাল ইন্ডিয়ান এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক জেসন ড্রপিক বলেন, ওয়াশিংটন অফিসের অস্থিরতা স্কুলগুলোতে প্রভাব ফেলে। তিনি একটি নির্বাহী আদেশের উদাহরণ দেন, যার মাধ্যমে বিআইই’কে স্কুল চয়েস সিস্টেমে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু ট্রাইবদের প্রতিবাদের পর তা বাতিল করা হয়। তিনি বলেন, "ট্রাইবাল পরামর্শ ছাড়া বড় পরিবর্তন এলে শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।" ক্রো ক্রিকের চেয়ারম্যান লেঙ্গকিক শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "এই ব্যবস্থাই আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ ধারণ করে। আমাদের স্থিতিশীলতা, বর্ধিত তহবিল ও অবকাঠামো প্রয়োজন।"

