কোনো বড় ঘটনা নয়, বরং শুধুমাত্র চেহারার এক অসাধারণ সাদৃশ্যই একজন সাধারণ মানুষকে আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত করতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ চীনের কন্টেন্ট নির্মাতা মা জিয়ানপিং। কালো টি-শার্ট, অগোছালো চুল এবং চেনা হাসির আত্মবিশ্বাসী এক ব্যক্তিত্বকে প্রথম দর্শনে টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক ভেবে বিভ্রান্ত হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি মাস্ক নন; অথচ এই কারণেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি এখন ভাইরাল।

মা জিয়ানপিং নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ভাইরাল হওয়ার এই পথচলা সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ছিল। তিনি ছিলেন চীনের সামাজিক মাধ্যমের একজন সাধারণ বিনোদনধর্মী কন্টেন্ট নির্মাতা। কিন্তু তার একটি ভিডিও যখন দাউয়িন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম যেমন টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, ফেসবুক এবং রেডিটে ছড়িয়ে পড়ে, তখন নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া তার জীবন বদলে দেয়। ভিডিওটির নিচে অসংখ্য মানুষ মুগ্ধ হয়ে লেখেন, 'এ তো একেবারে ইলন মাস্ক!' সেই থেকেই শুরু।

তবে শুধু মুখের গড়নই নয়, বরং তার দৃষ্টি, চোয়ালের গঠন, হাসির ধরন এবং ক্যামেরার সামনে অবস্থান নেওয়ার অঙ্গভঙ্গিতেও দর্শকেরা ইলন মাস্কের ছায়া খুঁজে পান। তিনি প্রায়শই কালো পোশাক পরেন, যা মাস্কের আইকনিক স্টাইলের সঙ্গে আরও বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। মাস্কের মতো করেই ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসা বা হাঁটার অভ্যাস তাকে আরও অভিন্ন করে তোলে, ফলে প্রথম কয়েক সেকেন্ড দর্শকদের বিভ্রান্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তবে একটি বিষয় শুরু থেকেই পরিষ্কার রেখেছেন এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি কখনো নিজেকে ইলন মাস্ক বলে জাহির করেন না। বরং অকপটে বলেন, তিনি একজন কন্টেন্ট নির্মাতা, এবং মাস্কের সঙ্গে সাদৃশ্যটিকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহার করেন। তার এই সততা দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই এনে দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, 'তিনি কাউকে ধোঁকা দিচ্ছেন না, কেবল মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন।'

সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়াও কম মজার নয়। কেউ প্রশ্ন করেন, 'টেসলার নতুন কারখানা কি চীনে?' আবার কেউ কৌতুক করে জানতে চান, 'ইলন মাস্ক কি গোপনে চীনে বসবাস শুরু করেছেন?' কেউ কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে এটিকে ইডিটেড ভিডিও বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এসব মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, একজন বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্বের সাথে চেহারার মিল কীভাবে দ্রুত ব্যপক দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।

শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ না থেকে, মা জিয়ানপিং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং প্রযুক্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনেও স্থান পেয়েছেন। অনেকে ইলন মাস্টকে ট্যাগ করে তার ভিডিও শেয়ার করলেও, টেসলার প্রধান এ বিষয়ে এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি। ফলে পুরো বিষয়টি আপাতত ইন্টারনেটের আলোচনার মধ্যেই সীমিত।

বিশ্বজুড়ে তারকাদের 'ডপেলগ্যাঙ্গার' বা হুবহু দেখতে মানুষ পাওয়া যায়, কেউ পেশাদার হিসেবে তাদের সাজেন, কেউবা স্রেফ মিলের কারণে জনপ্রিয় হন। মা জিয়ানপিংয়ের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। তবে তার সাফল্যের পেছনে কেবল চেহারার মিল নয়, বরং সেই মিলকে সৃজনশীলভাবে উপস্থাপনের দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন তিনি নিয়মিত নতুন কন্টেন্ট তৈরি, লাইভ স্ট্রিম এবং অনুসারীদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে 'ইলন মাস্কের প্রতিরূপ' তকমার বাইরে নিজের একটি আলাদা পরিচয় গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও তার ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষা বা পূর্বের পেশা সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ্য নয়, তবু সামাজিক মাধ্যমের এই যুগে একটি মুখই যে জীবন বদলে দিতে পারে, মা জিয়ানপিং তারই প্রমাণ।