বিশ্বখ্যাত পপ সংস্কৃতির মিলনমেলা সান দিয়েগো কমিক-কনে এবার এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করল কে-পপ ও ওয়েবটুনের এক অনন্য সংমিশ্রণ। দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন জায়ান্ট হাইবের অরিজিনাল স্টোরি বিভাগ এবং তাদেরই ব্যবস্থাপনায় থাকা জনপ্রিয় কে-পপ গ্রুপ এনহাইপেন এই আয়োজনে অংশ নিয়ে তাঁদের বহুল পঠিত ওয়েবটুন 'ডার্ক মুন' কে আন্তর্জাতিক দর্শক ও পাঠক সমাজের সামনে নতুন করে তুলে ধরতে এসেছিলেন।

এই উপস্থিতি ছিল একটি পরিকল্পিত উদ্যোগের অংশ, যার মূল লক্ষ্য ছিল 'ডার্ক মো'র জগতকে আরও বিস্তৃত করা। উক্ত ওয়েবটুনটি শুধু একটি গ্রাফিক আখ্যান নয়, বরং এটি এনহাইপেন ব্যান্ডের সদস্যদের চরিত্র এবং তাদের সঙ্গীতের ভিডিওগুলোর গল্পের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। কমিক-কনের এই মঞ্চকে বেছ করা হয়েছিল এর বৈশ্বিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণের ক্ষমতা এবং কমিক্স, সিনেমা ও টেলিভিশনের মতো মাধ্যমের পেশাদারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগকে কাজে লাগাতে।

একটি বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে তাঁরা 'ডার্ক মো'র যে বিস্ময়কর বিশ্ব নির্মাণ করা হয়েছে তা উপস্থাপন করেন। সেখানে গল্পের চরিত্রগুলো কীভাবে এনহাইপেনের সাত সদস্যের ব্যক্তিত্ব ও ভাবমূর্তির সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করা হয়। এই অভিনব ধারণা কে-পপ ইন্ডাস্ট্রি এবং গল্প বলার জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে ভক্তরা ব্যান্ডটিকে নিয়ে নির্মিত কাল্পনিক আখ্যানের সঙ্গে গভীর এক মানসিক সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।

হাইবের এই পদক্ষেপ কেবল একটি ওয়েবটুনের প্রকাশনা নয়, বরং এটি একটি সুবৃহৎ ট্রান্সমিডিয়া কৌশলের অংশ। কোম্পানিটি তাদের মেধা সম্পদের পরিধি বাড়াতে ও একাধিক মাধ্যমকে জড়িত করে দর্শকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ জগৎ গড়ে তুলতে এই কৌশল নিচ্ছে। এনহাইপেনের ভুমিকা এখানে কেন্দ্রীয়, কেননা তারা গানের মাধ্যমে যেমন ভ্যানদের মন্ত্রমুগ্ধ করে, তেমনি 'ডার্ক মুন'র মাধ্যমে তাঁদের শৈল্পিক প্রকাশের আরেকটি স্তর উন্মোচিত হয়।

আয়োজকদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, কমিক-কনের মতো একটি আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল 'ডার্ক মুন'-কে কেবল একটি ভ্যারসঙ্গির বিনোদন নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী গল্প হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা, যা যে কাউকেই মুগ্ধ করতে পারে। এই অনন্য অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন শিল্পের বিবর্তনের এক নতুন দিক উন্মোচিত করল, যেখানে সঙ্গীত, ফ্যানসংস্কৃতি ও গ্রাফিক আখ্যান একই সূতোয় গাঁথা।