ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, কেয়ামত দিবসে প্রতিটি মানুষের আমলনামা বা হিসাবের খাতা উন্মুক্ত করা হবে এবং সেই মুহূর্তটিই হবে মানুষের চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণের সময়। পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাইলের ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, সেদিন মানুষ নিজেই নিজের হিসাবের জন্য যথেষ্ট হবে। আর যাঁদের আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, তাঁরাই হবেন প্রকৃত বিজয়ী। সুরা হাক্কাহ-র বর্ণনা অনুযায়ী, ডান হাতে আমলনামা প্রাপ্ত ব্যক্তি আনন্দের সাথে অন্যদের তা দেখাতে চাইবেন এবং সুউচ্চ জান্নাতে পরম সন্তোষজনক জীবন অতিবাহিত করবেন।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে এমন ৬টি বিশেষ আমলের কথা বলা হয়েছে, যা একজন মুমিনকে 'আসহাবুল ইয়ামিন' বা ডানদিকের সৌভাগ্যবান দলে অন্তর্ভুক্ত করতে সাহায্য করে:
প্রথমত, অবিচল ইমান। বিশুদ্ধ ইমানই হলো ডান হাতে আমলনামা পাওয়ার প্রধান শর্ত। সুরা বালাদ-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, যারা বিশুদ্ধ ইমান এনেছে, তারাই হবে ডান হাতের আমলনামাপ্রাপ্ত সৌভাগ্যবান দল। মুসনাদে আহমাদ হাদিসে রাসুল (সা.) নিশ্চিত করেছেন যে, ডানদিকের এই দলটিই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
দ্বিতীয়ত, অন্যের ত্রুটি গোপন রাখা। সহিহ বুখারি-র একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যারা দুনিয়াতে অন্যের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাঁদেরকে বিশেষ পর্দায় ঢেকে নেবেন। তাঁদের পাপসমূহ স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লাহ যখন ক্ষমা করে দেবেন, তখন তাঁদের ডান হাতে নেক আমলের খাতা তুলে দেওয়া হবে।
তৃতীয়ত, ফরজ নামাজ ও ইবাদত রক্ষা করা। সুরা মুদ্দাস্সির-এ জান্নাত ও জাহান্নামবাসীদের কথোপকথনের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে। দোজখবাসীরা যখন তাঁদের শাস্তির কারণ জানতে চাইবে, তখন তাঁরা স্বীকার করবেন যে, তাঁরা নামাজ আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। অর্থাৎ, নামাজিদের আমলনামা ডান হাতে আসবে।
চতুর্থত, দানশীলতা ও অন্নদান। সুরা বালাদে বর্ণিত হয়েছে, কঠিন সময়ে ক্ষুধার্ত এতিম আত্মীয় বা মিসকিনকে অন্নদান এবং দাসমুক্ত করার মতো নেক কাজগুলো মানুষকে ডানদিকের সৌভাগ্যবান দলের সদস্য করে। এছাড়া সহিহ বুখারি অনুযায়ী, অত্যন্ত গোপনে সদকা করা, যেখানে বাঁ হাতও জানতে পারে না যে ডান হাত কী ব্যয় করেছে, তা বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ আমল।
পঞ্চমত, নিয়মিত ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা। আমলনামাকে পাপমুক্ত করার প্রধান উপায় হলো ইস্তিগফার। আল-মুজামুল আওসাত ও সুনানে ইবনে মাজাহ-র হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন নিজের আমলনামা দেখে প্রফুল্ল হতে চান, তাঁর উচিত অধিক পরিমাণে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আমলনামায় প্রচুর ইস্তিগফারের উপস্থিতি মুমিনের জন্য মহা সুসংবাদ।
ষষ্ঠত, আল্লাহর জিকির ও তসবিহ পাঠ। আমলনামা কোন হাতে আসবে তা নির্ধারিত হবে মিজানে বা আমলের ওজনের ওপর। যার নেক আমলের পাল্লা ভারী হবে, তাঁর খাতা ডান হাতে উঠবে। সহিহ বুখারি-র হাদিস মতে, 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম'—এই সহজ দুটি বাক্য মিজানে অত্যন্ত ভারী এবং আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, যা আমলনামার ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক।




