স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার সময় অনেকেই তা ব্যবহার করতে দ্বিধায় পড়েন। ফোন তুলনামূলক ধীরগতিতে চার্জ হতে দেখে একটি সাধারণ ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে, এতে ব্যাটারির চার্জ ধারণক্ষমতা স্থায়ীভাবে হ্রাস পেতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের বক্তব্য বলছে, বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন।
তাঁদের মতে, চার্জে থাকা অবস্থায় ফোন ব্যবহারের সময় মূল যে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, তা হলো ডিভাইসের তাপমাত্রা। যদি ফোনটি অস্বাভাবিক মাত্রায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তাহলে দীর্ঘক্ষণ সেই উত্তাপে থাকার ফলে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির দক্ষতায় ধীরে ধীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ফোন অতিরিক্ত গরম অনুভূত হলে সাময়িকভাবে তা ব্যবহার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বর্তমান বাজারে বিভিন্ন নির্মাতার হালনাগাদ ফোনগুলোতে অত্যাধুনিক ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, কার্যকর তাপ নিয়ন্ত্রণ কৌশল এবং বহু ক্ষেত্রে 'বাইপাস চার্জিং' নামক একটি বিশেষ প্রযুক্তি সংযুক্ত থাকে। এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? যখন ফোন চার্জারের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং ব্যবহারকারী কোনো অ্যাপ বা গেইম চালান, তখন প্রযুক্তিটি চার্জার থেকে আসা বিদ্যুৎ সরাসরি ফোনের সার্কিটে সরবরাহ করে। এর অর্থ হলো, ব্যাটারিকে একইসঙ্গে চার্জ গ্রহণ ও ডিসচার্জের দ্বৈত চাপ সহ্য করতে হয় না। এর ফলে ব্যাটারির তাপমাত্রা সহজেই নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে গেইমিং, ভিডিও সম্পাদনা, কিংবা উচ্চ-গ্রাফিক্সের অ্যাপ ব্যবহার করলেও অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
ফলে, চার্জে যুক্ত থাকা অবস্থায় বার্তা পড়া, ফোনে কথোপকথন, ছবি তোলা বা সামাজিক মাধ্যম ব্রাউজ করার মতো সাধারণ কার্যাবলি সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে মনে করা হয়। তবুও, টানা গেইম খেলা বা ভিডিও এডিট করার মতো দীর্ঘমেয়াদি ও সম্পদ-নির্ভর কাজ চালানোর সময় ডিভাইসের তাপমাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাটা জরুরি।
বাইপাস চার্চিং এখনও সব মোবাইলে উপলব্ধ নয়। স্যামসাং, গুগল, শাওমি ও জেডটিই-এর মতো ব্র্যান্ডের সাম্প্রতিক মডেলগুলোতে এই বৈশিষ্ট্য থাকলেও, অ্যাপলের আইফোনে এখনো এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যদিও বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে চার্জে বসে আইফোন ব্যবহার করলে ব্যাটারি অকার্যকর হয়ে পড়বে।
একইভাবে, সারা রাত ধরে ফোন চার্জে রেখে দেওয়া যে অত্যন্ত ক্ষতিকর, এই ধারণাটিও পুরোপুরি নির্ভুল নয়। আধুনিক স্মার্টফোনগুলোতে ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ হলে বিদ্যুৎ গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়, সুতরাং অতিরিক্ত চার্জিংয়ের মতো ঘটনা ঘটে না। এ ছাড়া অনেক ডিভাইসে 'অপটিমাইজড চার্জিং' নামক একটি বুদ্ধিমান ব্যবস্থা থাকে, যা ব্যবহারকারীর প্রাত্যহিক রুটিন শিখে নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে ব্যাটারি চার্জ করে। এর লক্ষ্য হলো ব্যাটারির ওপর অহেতুক চাপ না ফেলে, তবুও যখন ব্যবহারকারীর দরকার হবে, তখন ডিভাইস পুরোপুরি চার্জেড অবস্থায় প্রস্তুত থাকা।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদি ব্যাটারি স্বাস্থ্যের জন্য একটি পরামর্শও দিয়েছেন: ফোনের চার্জ ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রেখে চার্জ দিলে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির স্থায়ীত্ব ও কর্মক্ষমতা সবচেয়ে ভালো বজায় থাকে।



