কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা একটি অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারী। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন পানেরছড়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলম, ফরেস্ট গার্ড হুমায়ুন কবির, বাগানের মালি সাইদুল ইসলাম, কর্মচারী মো. সাজিদ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য মিজানুর রহমান।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে ওঠা একটি অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে গেলে বন বিভাগের দলটি হামলার শিকার হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বনকর্মীদের আঘাত করে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের অবস্থার অবনতি ঘটলে বিকেলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে।
ডিএফও আরও জানান, সকাল ১০টার দিকে বন বিভাগের একটি দল পানেরছড়া বনাঞ্চলের সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে যায়। এ সময় সেখানে অবস্থানরত দখলদারেরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ২৫ জুলাই একই ইউনিয়নের সমিতিপাড়া এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা আরেকটি অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদ করা হয়। একই দিন শিয়াপাড়া এলাকা থেকে পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ডাম্পার (মিনিট্রাক) জব্দ করা হয়। তাঁদের দাবি, ওই অভিযানের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
ডিএফও আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সরকারি দায়িত্ব পালনকালে বনভূমি রক্ষা ও বন আইন বাস্তবায়নে নিয়োজিত কর্মীদের ওপর এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা শুধু বন বিভাগের ওপর নয়, রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসন ও আইনের শাসনের ওপরও প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ।’ সংগঠনটি ঘটনার দ্রুত বিচার এবং জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।




