চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ইতিমধ্যে নানা মাইলফলক স্পর্শ করেছে। টেলিভিশনের পর্দায় দর্শকসংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়েছে, প্রতিটি ম্যাচের টিকিট নিমিষেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, এবং উল্লসিত পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। তিনটি আয়োজক দেশ—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—ষোলোর রাউন্ডে হেরে গেলেও তাদের প্রদর্শনী প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই আসরে ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে ফিফা রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করতে যাচ্ছে।

প্রশ্ন উঠছে, এই স্বল্পস্থায়ী উৎসব আয়োজক শহরগুলোর অর্থনীতি, পৃষ্ঠপোষক ও সামগ্রিকভাবে ফুটবল খেলাটির জন্য কতটা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেসবলকে ছাড়িয়ে গেলেও বাস্কেটবল ও আমেরিকান ফুটবলের চেয়ে এখনো পিছিয়ে। তবে ইতিহাস বলে, বৈশ্বিক ইভেন্টগুলো গন্তব্য বা খেলার জন্য টার্নিং পয়েন্ট তৈরি করতে পারে। ১৯৮৮ সালের সিওল অলিম্পিক কোরিয়াকে একটি দ্রুত বর্ধনশীল এশীয় অর্থনীতি হিসেবে তুলে ধরেছিল, আর ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা গেমস একটি শিল্পবন্দরকে পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরিত করেছিল। প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ভক্ত নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সম্প্রচারিত খেলা হিসেবে বিশ্বকাপ ফুটবলও একই ধরনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এই সুযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন ক্যারোলিন টিশ ব্লজেট। তিনি নেক্সট ৩-এর প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা, যা বিভিন্ন ক্রীড়া সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করে। তাঁর প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন গথাম এফসি বর্তমানে ন্যাশনাল উইমেন্স সকার লিগের (এনডব্লিউএসএল) শিরোপাধারী। গত সপ্তাহে অ্যাসপেন আইডিয়াস ফেস্টিভ্যালে তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ পুরো দেশকে ফুটবলের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ব্যাপক সফল হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় দলগুলোর জন্য এই আগ্রহ কতটা নিয়মিত ফ্যানডমে রূপ নেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।”

একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু পুরুষদের, আর নারী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছর ব্রাজিলে। মার্কিন জাতীয় নারী দল পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় অনেক বেশি পরিচিত ও সফল হলেও তারা যথেষ্ট সমর্থন পায়নি। টিশ ব্লজেট স্মরণ করেন, আগে যখন নারী দলের আয় পুরুষ দলের চেয়েও বেশি ছিল, তখন সমান বেতনের জন্য মেগান রাপিনোর লড়াই।

নতুন সুযোগ তৈরি করতে টিশ ব্লজেট গথাম এফসিকে নিউ ইয়র্ক সিটির একটি নতুন স্টেডিয়ামে সরানোর আলোচনা করছেন এবং দলটির জন্য আলাদা অনুশীলন সুবিধা নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আগে নিউ জার্সির রেড বুল সুবিধায় তাদের অবস্থান ছিল “১৫ বছর বয়সী বালকদের চেয়েও নিচের সারিতে।” বিশ্বকাপের এই উন্মাদনাকে পুঁজি করতে গথাম এফসি ১৫ জুলাই নিউ ইয়র্কের সিটি ফিল্ডে ওয়াশিংটন স্পিরিটের বিরুদ্ধে একটি প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করেছে। ইতিমধ্যে ২৯ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যার ৭০ শতাংশই প্রথমবারের মতো টিকিট কেনা ক্রেতা। এটি নিউ ইয়র্ক সিটিতে নারী ক্রীড়ার উপস্থিতির নতুন রেকর্ড।

পেশাদারিত্ব বাড়াতে টিশ ব্লজেট দলের কর্মী কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন এনেছেন। তিনি ভক্তদের বদলে পেশাদার নিয়োগের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “লোকে আবেগকে বেশি গুরুত্ব দেয়, কিন্তু আমার প্রয়োজন তাদের যারা নিজ নিজ কাজে সেরা।” তিনি একে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মানিবলের আধুনিক সংস্করণ বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি তিনি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন এবং পৃষ্ঠপোষকদের কাছে একটি উন্নত ডিজিটাল ও সম্প্রদায়-কেন্দ্রিক কৌশল উপস্থাপন করছেন যা ফুটবলের প্রতি স্থানীয় উৎসাহকে ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

গথাম এফসির লক্ষ্য সম্পর্কে টিশ ব্লজেট বলেন, “আমার উদ্দেশ্য নারী ক্রীড়াকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা। গোটা বিশ্বের মানুষ যখন বলে ‘এটা আমার প্রিয় দল’, তখন যেন তারা গথামের কথাই বলে।” তাঁর মতে, বিশ্বকাপ কেবল সূচনা, এখন থেকেই মূল কাজ শুরু হয়েছে।