বাংলাদেশের তৈরি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত কর্মী ব্যবস্থাপনা সমাধান এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বুয়েটের প্রকৌশলীদের হাতে গড়া 'টিপসই' প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে বিশ্বের ১১টি দেশে চালু রয়েছে। সম্প্রতি নিজেদের ব্র্যান্ড পরিচিতিতে পরিবর্তন এনেছে ইনোভেস টেকনোলজিস নামের এই প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির বিপণন বিভাগের প্রধান অর্ণব সিকদার জানান, তাঁদের প্রযুক্তি আগের চেয়ে অনেক এগিয়েছে এবং প্ল্যাটফর্মও বিস্তৃত হয়েছে। নতুন বাজার দখল এবং বাংলাদেশে তৈরি এই প্রযুক্তিকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করানোই এখন মূল লক্ষ্য। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে টিপসইয়ের সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, যন্ত্রাংশ, ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন জুড়ে পর্যায়ক্রমে নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি সক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে ১ হাজার ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এবং ২ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি ব্যবহারকারীকে সেবা প্রদান করছে। বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও এনজিওতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। সফটওয়্যার, বায়োমেট্রিক ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার উভয় ক্ষেত্রেই তাদের প্রবৃদ্ধি প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

বাংলাদেশে তৈরি সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সমাধান সাধারণত স্থানীয় বাজার পেরিয়ে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নজির খুব বেশি নেই। টিপসইয়ের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে একযোগে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপ ও এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশে উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সম্প্রসারণে বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত রয়েছে অ্যাক্সিলারেটিং এশিয়া ও অরবিট ভেঞ্চারস। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে বিদেশি বিনিয়োগ আসার এই ঘটনাটি দেশের স্টার্টআপ খাতের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্ণব সিকদার আরও বলেন, তাঁদের প্রযুক্তি ক্রমশ এগিয়ে চলেছে এবং প্ল্যাটফর্মও আকারে বেড়েছে। নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বাংলাদেশে তৈরি এই প্রযুক্তিকে বিশ্ব পর্যায়ে পরিচিত করানোই এখন প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য।