বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে, আগস্ট মাস জুড়ে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম ১৪০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪৫ টাকায় স্থির রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেল বর্তমান দামে বিক্রি হচ্ছে, অন্যদিকে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম জুন মাসে সমন্বয় করা হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষিতে এপ্রিলের মাঝামাঝি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। এরপর মে ও জুলাই মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে জুন মাসে সরকার তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। এভাবে দাম সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয় ২০২২ সালের আগস্টে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ডিজেলের দাম তখন সাড়ে ৪২ শতাংশ বেড়ে ১১৪ টাকায় পৌঁছায়। যদিও সমালোচনার মুখে ওই মাসেই লিটারপ্রতি ৫ টাকা কমানো হয়। সম্প্রতি এপ্রিলে মূল্যবৃদ্ধির ফলে জ্বালানি তেল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যে পৌঁছে। জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়।
২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্যনির্ধারণ পদ্ধতি চালু করে সরকার। সে অনুযায়ী, আগের মাসে আমদানি করা তেলের খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। মার্চের মতো এপ্রিলেও শুরুতে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। উল্লেখ্য, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), আর নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম ঠিক করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। ফিলিং স্টেশনগুলোতে লম্বা লাইন তৈরি হয়। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার এক দিন পর ২০ এপ্রিল থেকে সরবরাহ বাড়ানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে ফিলিং স্টেশন থেকে ভিড় কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। বর্তমানে আগস্ট মাসেও একই দাম বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।




