আটালান্টায় আজকের সেমিফাইনালে শুধু মেসি, কেইন বা বেলিংহামের ওপর নয়, আলো পড়বে দুই গোলকিপারের ওপরও। ফুটবলে গোলকিপারের একটি ভুল পুরো ম্যাচ বদলে দিতে পারে, আবার একটি সেভ এনে দিতে পারে অমরত্ব। মার্তিনেজের জন্য সেই অমরত্বের মুহূর্ত এসেছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে, যখন তিনি রান্দাল কোলো মুয়ানির শট ঠেকিয়ে দেন এবং পরে টাইব্রেকারে কিংসলে কোমানের পেনাল্টি বাঁচান। পুরো টুর্নামেন্টে তিনটি ক্লিন শিট ও গোল্ডেন গ্লাভ জিতে তিনি আর্জেন্টিনার 'মুশকিল আসান' হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে পিকফোর্ডের সাফল্য অপেক্ষাকৃত কম ঝলমলে। ২০১৮ বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে কার্লোস বাক্কার শট বাঁচিয়ে ইংল্যান্ডকে প্রথম বিশ্বকাপ শুটআউট জয় এনে দেন তিনি। তবে ২০২১ ও ২০২৪ ইউরোর ফাইনালে দলকে জেতাতে পারেননি।尽管如此, ইংল্যান্ডের প্রথম পছন্দের গোলকিপার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। এই বিশ্বকাপে দুজনের পারফরম্যান্স মিশ্র। মার্তিনেজ গ্রুপ পর্বে বড় কোনো পরীক্ষার সম্মুখীন না হলেও নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল হজম করেছেন। মিসরের ম্যাচের পর তিনি নিজেই আত্মসমালোচনা করে বলেছিলেন, 'আমার মনে হচ্ছে আমি কাউকে সাহায্য করতে পারছি না।' ক্যারিয়ারের শুরুতে মার্তিনেজ আর্সেনালে বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন অনেক বছর, ধারে খেলেছেন অক্সফোর্ড, শেফিল্ড ওয়েনসডে, হেতাফের মতো ক্লাবে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২১ সালে ২৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে সুযোগ পান। এরপর কোপা ও বিশ্বকাপ জিতে জাতীয় নায়কে পরিণত হন। বর্তমানে অ্যাস্টন ভিলার প্রথম পছন্দের গোলকিপার তিনি। পিকফোর্ডের ক্যারিয়ারও একই রকম সংগ্রামের। সান্ডারল্যান্ডের একাডেমি থেকে শুরু করে ডার্লিংটন, অ্যালফ্রেটন টাউন, বার্টন অ্যালবিয়ন, ব্র্যাডফোর্ড সিটি, প্রেস্টন নর্থ এন্ড—নিচু স্তরের ক্লাবে ধারে খেলে নিজেকে তৈরি করেন। ২০১৭ সালে এভারটনে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি ক্লাবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে পিটার শিল্টনকে ছাড়িয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১৮ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে তিনি দলের ত্রাতা হয়েছিলেন, রাউল হিমেনেজকে দুবার গোলবঞ্চিত করেন। তবে নরওয়ের বিপক্ষে প্রথম গোল হজমে তাঁর দায়ও ছিল। সাবেক ইংলিশ গোলকিপার পল রবিনসনের মতে, পিকফোর্ড যথাযথ স্বীকৃতি পান না। এই বিশ্বকাপে গোল্ডেন গ্লাভের দৌড়ে দুজন পিছিয়ে থাকলেও তাদের সামনে আলাদা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পিকফোর্ড ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো লিওনেল মেসির মুখোমুখি হবেন, কিন্তু তিনি জানিয়েছেন ইংল্যান্ড শুধু মেসিকে নিয়েই ভাবছে না। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের ক্লাবে দীর্ঘ ক্যারিয়ার কাটানো মার্তিনেজ প্রথমবার দেশটির বিপক্ষে মাঠে নামবেন। শেষ পর্যন্ত কে হবেন নায়ক, তা নির্ধারিত হবে আজকের ম্যাচে।
মার্তিনেজ-পিকফোর্ডের দ্বৈরথ: বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে গোলকিপারদের লড়াইয়ে নজর
আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড—দুই গোলকিপারের সামনে আজ গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন ও বর্তমান বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্লেষণ।

