যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনপ্রিয় ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠান টাকো বেল তাদের সব শাখার মেনু থেকে লেটুস বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এক নির্দিষ্ট সরবরাহকারীর কাছ থেকে আসা লেটুসের সঙ্গে তীব্র উদরাময়ের (এক্সপ্লোসিভ ডায়রিয়া) সম্পর্ক থাকার আশঙ্কায় 'অতিরিক্ত সতর্কতা' হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কখন এই লেটুস আবার মেনুতে ফিরবে, সে বিষয়ে এখনই কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
টাকো বেলের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, গ্রাহকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং ততক্ষণ পর্যন্ত ওই সোর্স থেকে কোনো লেটুস ব্যবহার করা হবে না। প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য সরবরাহকারীর কাছ থেকে লেটুস সংগ্রহ করছে কি না, সেটিও স্পষ্ট করেনি তারা। তবে গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলা হয়েছে, যাতে সাময়িক অসুবিধার জন্য তারা বিরক্ত না হন।
খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, লেটুসে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের উপস্থিতি এমন মারাত্মক ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ই. কোলাই বা সালমোনেলার মতো জীবাণু লেটুসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা আগেও দেখা গেছে। টাকো বেলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারত।
এই ঘটনার পর টাকো বেলের অন্যান্য খাবার যেমন ট্যাকো, বুরিটো বা কুইসাডিলায় লেটুস ছাড়াই পরিবেশন করা হচ্ছে। গ্রাহকরা চাইলে অতিরিক্ত ফি দিয়ে অন্য সবজি বা টপিং যোগ করাতে পারবেন। তবে লেটুসপ্রেমীদের জন্য এটি কিছুটা হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে টাকো বেলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ প্রতিষ্ঠানটির দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন, আবার কেউ কেউ লেটুসের বিকল্প ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।
কোম্পানির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, তারা যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চায়। সরবরাহকারীর বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেটুস সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) পক্ষ থেকেও বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

