সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস হ্যারি এবং মেগান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছয় বছর কাটানোর পর পুনরায় যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করতে চলেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে অবস্থিত তাদের বিলাসবহুল বাড়ি ছেড়ে তারা এখন লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত আবাসনে থাকার পরিকল্পনা করছেন। এই প্রত্যাবর্তনের সময়সীমা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করগত ফলাফল বয়ে আনছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দশ বছরের পরিবর্তে মাত্র ছয় বছর বিদেশে থাকার কারণে তারা বেশ কিছু বড় করছাড়ের সুযোগ হারাচ্ছেন। জাতীয় আইনি প্রতিষ্ঠান মিকেলমোরসের কর ও উত্তরাধিকার বিষয়ক প্রধান অংশীদার ধানা সবনাথন জানান, আরও কিছুদিন অপেক্ষা করলে তাদের কর পরিস্থিতি অনেক ভালো হতে পারত। যুক্তরাজ্যের নির্দিষ্ট কর নিয়মানুযায়ী, দশ বছর ধারাবাহিকভাবে অনাবাসিক থাকলে ফিরে আসার পর প্রথম চার বছরে FIG সুবিধা পাওয়া যায়। হ্যারি মাত্র ছয় বছর বাইরে থাকায় এই সুবিধা তিনি পাচ্ছেন না। ফলে, তাদের মার্কিনভিত্তিক বিনিয়োগের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি করলে সেই লাভের ওপর যুক্তরাজ্যে কর দিতে হতে পারে, যা আগে এড়ানো যেত।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি যুক্তরাজ্য আবাসিকত্ব ভাঙার সঙ্গে সম্পর্কিত উত্তরাধিকার করের সুবিধাও তার হাতছাড়া হয়েছে। উত্তরাধিকার করের হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। অনুমান অনুযায়ী হ্যারি ও মেগানের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ছয় কোটি ডলার। দশ বছর অনাবাসিক থাকার পর ফিরলে হ্যারির যুক্তরাজ্যের বাইরের সম্পদ—যেমন মন্টেসিটোর বাড়ি ও মার্কিন বিনিয়োগ—ফিরে আসার পরও বহু বছর উত্তরাধিকার করের আওতার বাইরে থাকতে পারত। কিন্তু এখন তার বিদেশি বিনিয়োগের লাভ বা বিক্রয়লব্ধ অর্থ যুক্তরাজ্যে করযোগ্য হতে পারে।

অপরদিকে, এই ছয় বছরের সময়সীমার কারণে একটি সম্ভাব্য কর আঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যুক্তরাজ্যের অস্থায়ী অনাবাসিক নিয়ম অনুসারে, কেউ যদি পাঁচ বছরের কম সময়ের জন্য দেশ ছেড়ে যান এবং বিদেশে বিনিয়োগ থেকে লাভ করে ফিরে আসেন, তবে সেই লাভের ওপর কর আরোপ হতে পারে। হ্যারি ও মেগান ছয় পূর্ণ বছর বাইরে থাকায় তারা এই নিয়মের সীমার বাইরে রয়েছেন। লন্ডনের কর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্লিক রথেনবার্গের প্রধান নির্বাহী নিমেশ শাহ বলেন, তাদের ফিরে আসার সময়সীমা এই দিক থেকে নিখুঁত। সবনাথনও জানান, পাঁচ বছরের বেশি সময় বাইরে থাকার ফলে তাদের অনাবাসিক অবস্থায় অর্জিত বিদেশি আয় বা বিনিয়োগ লাভ—যেমন নেটফ্লিক্স ও স্পটিফাইয়ের চুক্তি এবং মেগানের ‘অ্যাজ এভার’ ব্র্যান্ড থেকে অর্জিত অর্থ—ফিরে আসার পর যুক্তরাজ্যে করযোগ্য হবে না।

ছয় বছর আগে তারা জ্যেষ্ঠ কর্মরত রাজকীয় সদস্যের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে আরও গোপনীয়তা ও স্বাধীনতার সন্ধানে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান। সেখানে তারা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে আয় করেছেন। নেটফ্লিক্স ও স্পটিফাইয়ের সঙ্গে তাদের চুক্তি ছিল। তারা ‘হ্যারি অ্যান্ড মেগান’ নামক তথ্যচিত্র এবং ‘উইথ লাভ, মেগান’ নামক নেটফ্লিক্স অনুষ্ঠানে অভিনয় ও প্রযোজনা করেছেন। মেগান তার জীবনযাপন ও খাদ্যভিত্তিক ব্র্যান্ড ‘অ্যাজ এভার’ও চালু করেছেন। ২০২০ সাল থেকে হ্যারি কর্মরত রাজকীয়দের জন্য নির্ধারিত সরকারি অর্থও গ্রহণ করেননি।

সম্প্রতি হ্যারি রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার পিতা রাজা তৃতীয় চার্লস বর্তমানে একটি অপ্রকাশিত ক্যান্সার রোগে ভুগছেন। গত মাসে রাজা ও রানি ক্যামিলার গ্লুচেস্টারশায়ারের ব্যক্তিগত গ্রামীণ আবাসনে হ্যারি ও মেগানের সঙ্গে একটি পারিবারিক সাক্ষাৎ হয়েছিল; চার বছর পর এটি ছিল তাদের নাতি-নাতনিদের সঙ্গে প্রথম পুনর্মিলন। বিভিন্ন সূত্রের মতে, তাদের সন্তান—সাত বছরের প্রিন্স আর্চি ও পাঁচ বছরের প্রিন্সেস লিলিবেট—ইতিমধ্যে ব্রিটিশ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। এই সাক্ষাৎ ও রাজপরিবারের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তাদের ফিরে আসার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঠিক কোন এস্টেটে তারা বসবাস করবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে জানা গেছে তারা লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত আবাসনে থাকবেন, যা রাজকীয় সম্পত্তি নয়। একই সঙ্গে তারা মন্টেসিটোর সম্পত্তিটিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ঘর হিসেবে রাখবেন। হ্যারি মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে; ফলে মন্টেসিটো ছেড়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কারণে তিনি মার্কিন কর ব্যবস্থার আওতায় পড়বেন না। তবে ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মগ্রহণকারী মেগান যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও তার নিজ দেশের কর সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রথমে ফরচুন ডট কমে প্রকাশিত হয়েছিল।