আলাবামার একটি জুরি বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক টাইমসকে মানহানির দায়ে ৯২.৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদানের রায় দিয়েছে। টাসকালুসায় ঘটে যাওয়া এক প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় কলেজ বাস্কেটবল খেলোয়াড় কাই স্পিয়ার্সের উপস্থিতি ভুলভাবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্পিয়ার্স আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ বাস্কেটবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে টাসকালুসায় সংঘটিত ওই গুলির ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক মায়ের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে বিদ্যালয়ের আরও তিনজন বাস্কেটবল খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করে যে স্পিয়ার্সও সেই গাড়ির যাত্রী হিসেবে সেখানে ছিলেন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সূত্রটির পরিচয় গোপন রাখা হয় এবং উল্লেখ করা হয় যে তিনি “সংবেদনশীল বিষয়ে আলোচনা করতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক”। কয়েকদিন পর সংবাদপত্রটি সম্পাদকীয় নোটের মাধ্যমে তাদের ভুল স্বীকার করে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি সংশোধন করে।

তবে ততদিনে স্পিয়ার্সের মতে, ভুল তথ্য তাকে চরম মানসিক যন্ত্রণায় ফেলেছিল এবং চিরস্থায়ীভাবে একটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে দিয়েছিল। ২০২৩ সালে তিনি এই মামলা দায়ের করেন। মামলাটি উত্তর আলাবামার যুক্তরাষ্ট্রীয় জেলা আদালতে নয়দিন ধরে চলা বিচারের পর আট সদস্যের জুরি তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়। আদালতের নাম ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব আলাবামা।

স্পিয়ার্সের আইনজীবী ম্যাট গ্লোভার রায়ের পর বলেন, তিনি এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। তার বিশ্বাস, “এই রায় দেশের সাংবাদিকতা উন্নত করতে সহায়তা করবে।” অপরদিকে, নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের আইনি বিকল্প পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটির মুখপাত্র চার্লি স্ট্যাডল্যান্ডার। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জুরির এই রায়ে আমরা হতাশ। আমরা মনে করি, এটি ছিল একটি সৎ ভুল।” তিনি আরও বলেন, “জুরির সেবার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস যে এই রায় ও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ আইনের পরিপন্থী এবং প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয়।”

মামলায় স্পিয়ার্স দাবি করেন, ভুল প্রতিবেদনের ফলে তার আবেগিক ক্ষতি হয়েছে এবং সমাজে তার ভাবমূর্তি স্থায়ীভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পত্রিকাটি যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোনো প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দায়ের হওয়া মানহানির মামলায় পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরাজিত হয়নি। প্রথমে এই সংবাদটি ফরচুন ডটকমে প্রকাশিত হয়েছিল।