দক্ষিণ সুরমা ও নাচোলে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য স্বেচ্ছাসেবী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে এই কর্মসূচি। একই অভিযোগে রাজশাহীর বাগমারায় মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দক্ষিণ সুরমায় সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ইউএনও কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় বিক্ষুব্ধরা। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনীতিকের নির্দেশে শুমারিতে নিয়োগের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ফলে বহু মেধাবী ও প্রকৃত আবেদনকারী বাদ পড়েছেন। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে এই প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে যোগ্যদের নিয়োগের দাবি জানান।
গত শনিবার রাতে উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে আটটি ইউনিয়নে ৬৯ জন তথ্যসংগ্রহকারী ও ছয়জন সুপারভাইজার নিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল। এছাড়া রিজার্ভ ও অপেক্ষমাণ তালিকাও ঘোষণা করা হয়। তবে প্রশাসনের এই প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ সুরমার ইউএনও এমদাদুল হক শরীফ বলেন, তিনি ওই সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠকে ছিলেন। তিনি জানান, যাঁরা বিক্ষোভ করছেন, তাঁরা কোনো সুনির্দিষ্ট অনিয়মের প্রমাণ দিতে পারেননি। স্বচ্ছতার সঙ্গে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে মেধা অনুযায়ীই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক চাপে নয় বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে দুপুরে ইউএনও কার্যালয়, সমাজসেবা, আইসিটি ও বিআরডিবি অফিসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে ছাত্রদল ও যুবদল। সেখানে অভিযোগ করা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সমর্থক। বিএনপির মাত্র কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে নাচোল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের জানান, তালা মারা এবং বিক্ষোভের ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী সরাসরি অংশ নেননি।
নাচোলের ইউএনও প্রিয়াঙ্কা দাস বলেন, তিনি অফিসের বাইরে থাকায় ঘটনা সরাসরি দেখেননি। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। সরকারি কাজে এমনভাবে বাধা দেওয়া আইনসম্মত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাজশাহীর বাগমারায়ও একই অভিযোগে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে ইউএনও কার্যালয়ের নিচে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। সেখানে ইউএনও এবং সমাজসেবা অফিসারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। বাগমারার ইউএনও সেলিম আহমেদ জানান, একটি নিরপেক্ষ কমিটি মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে। কারও কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ ও বালাগঞ্জেও নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।




