শিক্ষার্থীদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে তুরস্ক সরকার। জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি করা নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই তাদের পড়ুয়াদের ছবি বা ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশ করতে পারবে না। ইতিমধ্যেই দেশের সব প্রাদেশিক শিক্ষা বিভাগে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনের সঙ্গেই এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সম্প্রতি সাইবার বুলিং ও পরিচয় চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে তারা অনলাইন অপরাধীদের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে যৌন হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে মন্ত্রণালয়। ডিজিটাল জগতে শিশুদের অজান্তেই তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার রোধ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।

এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহারের আগে কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত নিজেদের প্রচারণায় শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করে থাকে। এখন থেকে এই কাজ শুধু অভিভাবকের অনুমতি নিয়েই করা যাবে, আর সেই ছবি হতে হবে সম্পূর্ণ মর্যাদাপূর্ণ ও শিক্ষার্থীর সম্মান রক্ষা করে। এমনকি অভিভাবকের সম্মতি থাকলেও ছবির ব্যবহার হতে হবে শালীন এবং শিক্ষার্থীর মর্যাদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

নতুন নিয়ম লঙ্ঘন করলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে স্কুল ও কলেজের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট তদারক করবে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে এই নির্দেশনা কার্যকর করার দায়িত্বে থাকবেন প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গোপনীয়তা নীতি ভাঙবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।