টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে একটি নির্মাণাধীন সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে প্রবেশের অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে, তিনি কালিহাতী উপজেলার নারিন্দা ইউনিয়নের নগরবাড়ি গ্রামের শুকুর আলী (২৫)।

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় কদিমধল্যা ও কাটরা গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে বিআরটিএর অধীনে নির্মীয়মান রোড অপারেশনাল ইউনিটে এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ছয় থেকে সাত সদস্যের একটি দল একটি পিকআপ ভ্যানে চেপে কেন্দ্রটির অভ্যন্তরে ঢোকার চেষ্টা চালায়। দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষী খোকন শেখ তাদের বাধা প্রদান করলে দলটি তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে।

তাঁর চিৎকার শুনতে পেয়ে আশপাশের জনসাধারণ এবং মহাসড়কের সার্ভিস লেন দিয়ে চলাচলকারী লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। জনতার উপস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত দলের বাকি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও শুকুর আলীকে স্থানীয় বাসিন্দারা আটকে ফেলেন। পরবর্তীতে তাকে বেদম প্রহার করা হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ সময় আহত অবস্থায় নিরাপত্তাকর্মী খোকন শেখকে উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। মির্জাপুরের আছিমতলা এলাকায় বসবাসকারী খোকনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং সেখানে সেলাই লাগানো হয়েছে বলে জানান উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম। তার পৈতৃক নিবাস সিরাজগঞ্জ জেলায়।

পুলিশ সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শুকুর আলীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রমিজ রায়হান। ঘটনাস্থলের প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রাথমিক ধারাঘা, ওই ব্যক্তিরা ডাকাতির উদ্দেশ্যেই কেন্দ্রটির ভিতরে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন। নিহত শুকুর আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি সংক্রান্ত অন্তত চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি আরও জানান, সমস্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মৃতদেহটি তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।