ইংল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেটে এবার অভিনব প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। নর্থ ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড সাউথ ডারহাম লিগে দ্বিতীয় বিভাগের একটি ম্যাচে সল্টবার্ন ক্রিকেট ক্লাব ও মিডলসবরো ক্রিকেট ক্লাবের দ্বিতীয় একাদশ মুখোমুখি হয়। খেলা চলাকালে সল্টবার্নের এক স্লিপ ফিল্ডার তার আঙুল মটকিয়ে ব্যাটে বল লাগার মতো শব্দ তৈরি করেন, যার ভিত্তিতে আম্পায়ার ব্যাটসম্যানকে কট আউট ঘোষণা করেন। অথচ ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট, বল ব্যাট স্পর্শ করেনি।

স্থানীয় ক্রিকেটার বেন মামেরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম এই প্রতারণার দৃশ্য প্রকাশ করেন। একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘প্রথম স্লিপের ফিল্ডার আঙুল মটকিয়ে ব্যাটে লাগার ভ্রম তৈরি করছে, অথচ বল ব্যাটের খুব কাছে দিয়েও যায়নি। ক্রিকেটে এটাই সম্ভবত আমার দেখা সবচেয়ে জঘন্য প্রতারণা।’ তার অভিযোগের সূত্র ধরে পরবর্তীতে আরও কিছু ভিডিও সামনে আসে, যেখানে একই ক্লাবের উইকেটকিপার এবার মৌসুমে অস্বাভাবিক হারে ক্যাচ নিয়েছেন— শেষ আট ম্যাচে ৩১টি এবং একটি ইনিংসে সর্বোচ্চ ৮টি। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ সাতটি ক্যাচের রেকর্ড তুলে ধলে বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।

মিডলসবরোর অধিনায়ক ররি কটেরিলও এ নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই ম্যাচেই আরও দুইজন তরুণ খেলোয়াড়— যাদের বয়স ১৫ ও ১৬ বছর— এ ধরনের বাজে আম্পায়ারিং সিদ্ধান্তের শিকার হন। তিনি নন-স্ট্রাইক প্রান্তে দাঁড়িয়ে এসব প্রত্যি করেছিলেন। দলটি মাত্র ২৯ রানে পরাজিত হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

এদিকে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর সল্টবার্ন ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইট থেকে কিছু লাইভ স্ট্রিম সরিয়ে ফেলে। ঘটনাটি টকস্পোর্ট, বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল, স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেট এবং জিমি অ্যান্ডারসনের পডকাস্টের মতো প্ল্যাটফর্মের নজরে আনতে উদ্যোক্তা ট্যাগও ব্যবহার করেন।

লিগ কর্তৃপিি বিবৃতি দিয়ে জানায়, ‘শনিবারের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচটির অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্পর্কে একটি প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ গৃহীত হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়েছে এবং বিচারিক কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হবে না।’ ক্রিকেট প্ল্যাটফর্ম বিগহিটক্রিকেট মন্তব্য করেছে, এই প্রকাশের পর ক্লাব ও জড়িত খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা আশা করে; পাশাপাশি এটাও সম্ভব যে, প্রতারণা করতে গিয়ে স্লিপ ফিল্ডার অনেকবার সত্যিকারের ক্যাচও মিস করেছে।