কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, দেশটির পরবর্তী প্রজন্মের সাবমেরিন বহর নির্মাণের জন্য জার্মানির থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমসকে অগ্রাধিকার সরবরাহকারী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হানওয়া ওশানের শেয়ার বাজারে ব্যাপক ধাক্কা খায়। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম এক লাফে ২৩ শতাংশ নিচে নেমে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

কানাডা সরকার তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই সাবমেরিন প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। হানওয়া ওশান এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমসই বিজয়ী হয়েছে। জার্মান প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাই সম্ভবত তাদের এগিয়ে রাখার মূল কারণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

চুক্তিটি হাতছাড়া হওয়ায় হানওয়া ওশানের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কানাডার মতো একটি বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ হারানো কোম্পানিটির জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হানওয়া ওশান আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। এই ব্যর্থতা তাদের পরিকল্পনায় বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

অপরদিকে, থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমসের জন্য এই চুক্তি একটি বড় অর্জন। কানাডার মতো একটি উন্নত দেশের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা প্রকল্পে অংশীদার হওয়া জার্মান প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক অবস্থান আরও মজবুত করবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির আর্থিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে, যা থাইসেনক্রুপের জন্য আগামী কয়েক দশকের রাজস্ব নিশ্চিত করবে।

হানওয়া ওশানের শেয়ারের পতন দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারেও কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। বিশেষ করে তারা জানতে চায় হানওয়া ওশান অন্যান্য দেশের সাবমেরিন প্রকল্পে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কিনা। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।