মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে যাচ্ছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান আজ শুক্রবার জেদ্দায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করতে প্রস্তুত, যা এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সৌদি সামরিক বাহিনী ও প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ দুইটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নাম গোপন রাখার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, কৌশলগত এই চুক্তিটি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও বিদ্যমান আঞ্চলিক সংকট এর চূড়ান্ত বাস্তবায়নকে দ্রুততর করেছে। অপর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রও আজকের এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের তথ্য সত্যতা যাচাই করেছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ রণকৌশলী চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে লোহিত সাগরের তীরবর্তী শহর জেদ্দায় অবস্থান করছেন তিন দেশের শীর্ষ নেতারা। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তার সঙ্গে আছেন দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তারা গতকাল বৃহস্পতিবারই সৌদি আরবে পৌঁছে গেছেন এবং আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। এর পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের আজ জেদ্দায় অবতরণ করার কথা রয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ সফর ৬ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দফতরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই এই সফর সংঘটিত হলেও এর গুরুত্ব বর্তমান সংকট এবং স্বল্পমেয়াদি হিসাব-নিকাশের গণ্ডি পেরিয়ে যাবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ তিন জাতির মধ্যে একটি সম্ভাব্য কৌশলগত জোটের কাঠামো নিয়ে নানাবিধ দেন-দরবার চলছিল। বর্তমান প্রেক্ষিতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সরাসরি যুদ্ধাবস্থা নিরসনে মধ্যস্ততা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। একইভাবে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতায় সরব ভূমিকা রেখে চলেছে আঙ্কারা। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি পৃথক দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল। পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্র হওয়ায়, সেই চুক্তিটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।




