১৯৬৬ সালে শেষবারের মতো বিশ্বকাপ জেতা ইংল্যান্ডের সামনে এখন দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষা শেষ করার সম্ভাবনা। এই সুযোগকে ঘিরে আলোচনায় এসেছে হোয়াইট হাউসের সমর্থনও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বকাপ-বিষয়ক প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
নিজেরা বেলজিয়ামের কাছে শেষ ষোলোয় হেরে বিদায় নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে জুলিয়ানি এখন ইংল্যান্ডকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেদের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে বিশ্বকাপ জিততে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইংল্যান্ডের জয় একটি অসাধারণ গল্প হবে। টুর্নামেন্টে টিকে থাকা দলগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডকে অন্যতম সেরা দল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও ইংল্যান্ড দলের প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালে হ্যারি কেইনকে ‘দারুণ খেলোয়াড় ও অসাধারণ মানুষ’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। জুলিয়ানি জানান, কেইনের পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন ট্রাম্প। এছাড়া জুড বেলিংহামের প্রশংসা করতেও ভুলেননি তিনি। জুলিয়ানির ভাষ্য, ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের পথে কেইনের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বেলিংহামকেও অসাধারণ ফুটবলার হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।
দলের সামগ্রিক মূল্যায়ন প্রসঙ্গে জুলিয়ানি বলেন, ইংল্যান্ড একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল। তাঁর পরামর্শ, আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা জরুরি এবং কোচের উচিত খেলোয়াড়দের বোঝানো যে তাদের বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য রয়েছে। ট্রাম্পের ফুটবল সম্পর্কে জ্ঞানের কথাও উল্লেখ করে জুলিয়ানি জানান, প্রেসিডেন্টের ছেলে ব্যারনের মাধ্যমেও এই আগ্রহ আরও বেড়েছে। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়েইন রুনিকে নিয়ে গলফ খেলার স্মৃতিচারণও করেন।
ইংল্যান্ডের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আগামী বুধবার আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে এই সেমিফাইনাল ম্যাচ। এই ম্যাচ জিতলেই ফাইনালে পৌঁছানোর পথ সুগম হবে ইংল্যান্ডের। হোয়াইট হাউসের সমর্থন শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে শিরোপা জিততে সাহায্য করে কিনা, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

