মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমানে শীর্ষ contenders-দের তালিকায় উঠে এসেছেন ব্ল্যাকরকের গ্লোবাল ফিক্সড ইনকামের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিক রিডার। বিশেষ করে কালশি (Kalshi) এবং পলিমার্কেট (Polymarket)-এর মতো প্রেডিকশন মার্কেটগুলোতে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে তিনি অনেক প্রাতিষ্ঠানিক পছন্দের ব্যক্তিত্বদের পেছনে ফেলে দিয়েছেন। যদিও তিনি আগে কখনও ফেডে কাজ করেননি, তবে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা এবং বাজারের অস্থিরতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে এই পদের জন্য যোগ্য করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিক রিডারের পেশাদার জীবনটি মূলত বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক পতনের মধ্য দিয়ে টিকে থাকার এক অনন্য উদাহরণ। ১৯৮৭ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি ই.এফ. হাটন-এ যোগ দেন, যা অল্প সময়ের মধ্যেই ব্ল্যাক মানডে-র ধাক্কায় লেহম্যান ব্রাদার্সের সাথে একীভূত হয়ে যায়। এরপর প্রায় দুই দশক লেহম্যানে কাজ করার পর ২০০৮ সালে সংস্থাটির ঐতিহাসিক দেউলিয়া হওয়ার ঠিক আগেই তিনি বেরিয়ে আসেন এবং নিজস্ব প্রতিষ্ঠান 'আর৩ ক্যাপিটাল' (R3 Capital) গঠন করেন। পরবর্তীতে ব্ল্যাকরকের সিইও ল্যারি ফিঙ্ক তার প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণ করেন এবং রিডারকে বিশ্বের বৃহত্তম বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বন্ড মার্কেট পরিচালনা করছেন, যা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের বার্ষিক জিডিপির চেয়েও বেশি।
তার কর্মশৈলী নিয়ে সহকর্মীদের বর্ণনা রীতিমতো বিস্ময়কর। রিডার একজন চরম ডেটা-নির্ভর মানুষ এবং তাকে বর্ণনা করা হয়েছে একজন 'ইনসোমনিয়াক' বা অনিদ্রাগ্রস্ত ব্যক্তি হিসেবে। তিনি দিনে সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা ঘুমান এবং রাত ৩টে থেকে ১১টা পর্যন্ত অত্যন্ত সক্রিয় থাকেন। বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণে তার এই जुनून এতটাই প্রবল যে, ছুটিতে থাকা অবস্থাতেও তিনি অ্যাপলের মতো বড় কোম্পানির আয়ের রিপোর্ট যাচাই করেন। তার মতে, ঘুমের সময় বাজারের নিয়ন্ত্রণ বাইরে চলে যাওয়ার অনুভূতিটি তার জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক। এই তীব্র উদ্বেগ এবং ডেটা-নির্ভরতা তাকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে তুলেছে।
তবে তার এই সফল যাত্রার শুরুটা ছিল বেশ কঠিন। উচ্চবিদ্যালয় জীবনে তিনি ছিলেন একজন মাঝারি মানের এবং লক্ষ্যহীন ছাত্র। এমনকি হবোয়ার্ট কলেজে প্রথম বর্ষে খারাপ ফলের কারণে তিনি একাডেমিক প্রবেশনে চলে গিয়েছিলেন। তবে বাবার কঠোর পরিশ্রম এবং পারিবারিক সংগ্রামের কথা চিন্তা করে তিনি নিজের জীবন বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর এমোরি ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায়িক পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে তিনি দ্রুত নিজেকে বদলে ফেলেন এবং ক্লাসের অন্যতম সেরা ছাত্র হিসেবে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে হোয়ার্টন থেকে এমবিএ করার সময় ক্যাসিনোর ব্যবসায়িক মডেল থেকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পান—তা হলো টিকে থাকার জন্য পর্যাপ্ত তারল্য (liquidity) এবং সময়ের প্রয়োজনীয়তা। এই দর্শনেই তিনি তার পুরো বিনিয়োগ কৌশল সাজিয়েছেন।
সহকর্মীদের মতে, রিডার অত্যন্ত বিনয়ী এবং একজন দক্ষ শ্রোতা, যা তাকে উচ্চপদস্থ সিইও বা গ্রাহকদের সাথে আলোচনায় সফল করে তোলে। তিনি কেবল পেশাগতভাবেই সফল নন, বরং গত ২০ বছর ধরে নিউয়ার্কের আনকমন স্কুলস-এর বোর্ডে থেকে সেবামূলক কাজেও যুক্ত।
ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে তার নিয়োগ নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ফেড সাধারণত বাজারের পরিবর্তনের বিষয়ে অনেক দেরি করে প্রতিক্রিয়া দেখায়, যেখানে রিডারের বিশেষত্ব হলো ভবিষ্যৎবাণী করা এবং আগাম প্রস্তুতি নেওয়া। যদিও তার রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা অস্পষ্ট—তিনি ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় পক্ষকেই সমর্থন দিয়েছেন—তবে তার পেশাদার দক্ষতা এবং বাজার চালনার ক্ষমতা তাকে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। তবে প্রশ্ন remains যে, বাজারের দ্রুত পরিবর্তন আর মুনাফার তাড়নায় অভ্যস্ত একজন মানুষ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে কীভাবে মানিয়ে নেবেন।




