প্রসাধনী জগতে লিপস্টিকের অবস্থান চিরস্থায়ী। সময়ের সাথে সাথে এর রং, গঠন ও ব্যবহারে অনেক পরিবর্তন এলেও এর জনপ্রিয়তা কমেনি। বর্তমানে বাজারে পাওয়া লিপস্টিকের মূল উপাদানগুলো কী কী, চলুন সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।
লিপস্টিকের সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে থাকে তেল, যা প্রায় ৬৫ শতাংশ। সাধারণত ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহৃত হয়, যা ঠোঁটকে আর্দ্র রাখে এবং জীবাণু প্রতিরোধে সাহায্য করে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মোম, যার পরিমাণ প্রায় ২৫ শতাংশ। ব্রাজিলের কারনুবা পাম গাছ থেকে পাওয়া মোম এবং মৌচাকের মোম সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়।
ল্যানোলিন নামের একটি বিশেষ উপাদান ভেড়ার লোম থেকে আহরণ করা হয়। এটি লিপস্টিকে আঠালো ভাব ও ময়েশ্চারাইজিং গুণাগুণ যোগ করে। পুরো লিপস্টিকের প্রায় ৫ শতাংশ জুড়ে থাকে এই ল্যানোলিন। রংয়ের পরিমাণও ৫ শতাংশের মতো। লাল লিপস্টিকে ব্যবহৃত কারমিন নামক রঞ্জক পদার্থটি আসলে এক ধরনের পোকা চূর্ণ করে তৈরি করা হয়। কিছু লিপস্টিকে ক্যাপসাইসিন নামক একটি উপাদান থাকে, যা ঠোঁটকে ফোলাতে বা 'প্লাম্প' করতে সাহায্য করে। এর ঝাঁঝালো বৈশিষ্ট্যই এই কাজে লাগে।
লিপস্টিকের ইতিহাসও বেশ পুরনো। ১৮৮৪ সালে ফরাসি প্রসাধনী ব্র্যান্ড গুয়েরলিন প্রথম বাণিজ্যিক লিপস্টিক বাজারে আনে। হরিণের চর্বি, মৌচাকের মোম ও ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে সিল্কের কাগজে মুড়িয়ে তারা এটি বিক্রি করত। তার আগে প্রাচীন সভ্যতাগুলোতেও ঠোঁট রাঙানোর প্রচলন ছিল। প্রাচীন মিসরীয়রা শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং রোগমুক্তি ও ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেও মেকআপ ব্যবহার করত। রানি ক্লিওপেট্রা বিশেষ 'স্মোকি আই' মেকআপে নীল ও সবুজ পাথরের গুঁড়া ব্যবহার করতেন। প্রাচীন রোমান সভ্যতায় গাল রাঙাতে বিষাক্ত পারদ ব্যবহার করা হতো, আর রানি প্রথম এলিজাবেথ সাদা সিসাকে ফাউন্ডেশন হিসেবে ব্যবহার করতেন।
'মেকআপ' শব্দটি ১৯২০ সালের আগে তেমন প্রচলিত ছিল না। ম্যাক্স ফ্যাক্টরের 'সোসাইটি মেকআপ' পণ্যটি চালু হওয়ার পর থেকে এই শব্দ জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে বিশ্ব প্রসাধনশিল্পের বাজারমূল্য বিশাল আকার ধারণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে এর মূল্য ৭৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। লিপস্টিক ছাড়াও প্রসাধনীর ইতিহাসে আরও অনেক পণ্যের আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ। ১৯১৭ সালে মেবেলিন প্রথম রঙিন মাসকারা তৈরি করে, যার নাম ছিল ল্যাশ-ব্রো-আইন। ১৯৩২ সালে রেভলন প্রথম নেইল পলিশ বাজারে আনে। ১৯৩৮ সালে ম্যাক্স ফ্যাক্টর পেন-কেক নামের প্রথম প্রেসড পাউডার ফাউন্ডেশন তৈরি করে। একই কোম্পানি ১৯৫৪ সালে প্রথম কনসিলার স্টিক বাজারে এনে ইতিহাস সৃষ্টি করে।




